৩ নং খাজুর ইউনিয়নে বেহাল রাস্তা: দুর্ভোগে আলিদেওনা ও সন্তোষ গ্রামবাসী, সংস্কারের দাবি

নির্বাচন এলেই মেলে প্রতিশ্রুতি, কিন্তু নির্বাচন পেরোলেই ফুরিয়ে যায় নেতাদের খোঁজ। বছরের পর বছর ধরে এমনই এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ৩ নং খাজুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
৪ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত আলিদেওনা গ্রামের পশ্চিম পাড়া ঠাকুরবাড়ি দক্ষিণ দিকের রাস্তাটির এখন চূড়ান্ত শোচনীয় দশা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা শুনে আসছেন এই কাঁচা রাস্তায় ‘হেয়ারিং’ বা ইটের গাঁথুনি দেওয়া হবে। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন দেখেনি ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
মাঠের ধান ঘরে তুলতে চরম ভোগান্তি
বর্তমানে চলছে ইরি-বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার ভর মৌসুম। একদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে অনাবৃষ্টি ও আবহাওয়াজনিত কারণে মাঠের পাকা ধান ঘরে তুলতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। এর ওপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভাঙাচোরা রাস্তা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে প্রায় আড়াই থেকে তিন ফিট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি জমে রাস্তাটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এই কর্দমাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা দিয়ে মাঠের ধান আনা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন আলিদেওনা ও সন্তোষ গ্রামের কয়েকশ কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য
রাস্তার এই দুরাবস্থা নিয়ে গতকাল ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মোঃ খালেক সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে ৩ নং খাজুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব বেলাল উদ্দিন  বর্তমানে একটি জরুরি কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চেয়ারম্যান সাহেব দেশে না ফেরা পর্যন্ত এই মুহূর্তে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অবিলম্বে সংস্কারের দাবি
চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মনে। আলিদেওনা ও সন্তোষ গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ৩ নং খাজুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব বেলাল উদ্দিন স্যারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে, তিনি যেন দেশে ফিরেই জনস্বার্থে অবিলম্বে এই রাস্তাটি সংস্কারের কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং এলাকাবাসীকে এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।