বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১১৭৬ হিজরির প্রাচীন নিদর্শন: লালমনিরহাটে দাড়ি গজানোর অলৌকিক স্মৃতি বিজড়িত ‘নিদরিয়া মসজিদ’

লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কিসমত নগরবন গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক নিদরিয়া মসজিদ। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এই মসজিদটি মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নির্দশন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। কেবল এর স্থাপত্যশৈলী নয়, বরং এর নামকরণের পেছনের অলৌকিক ইতিহাস ও জমিদারের মহানুভবতা আজও মানুষকে বিস্মিত করে।
​এক অলৌকিক মানত ও ইতিহাস
​মসজিদটির গায়ে খোদাই করা তথ্যানুযায়ী, এটি ১১৭৬ হিজরিতে (মোগল আমলে) নির্মিত হয়। তৎকালীন প্রভাবশালী জমিদার সুবেদার মনসুর খাঁ এটি নির্মাণ করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, সুবেদার মনসুর খাঁর মুখে দাড়ি ছিল না। তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যে, যদি তার মুখে দাড়ি গজায়, তবে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন।
​আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে দ্রুতই তার মুখে দাড়ি গজাতে শুরু করে। নিজের সেই পবিত্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে তিনি কিসমত নগরবনে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। সুবেদার মনসুর খাঁর আগে দাড়ি ছিল না বলে এবং সেই ঘটনার স্মারক হিসেবেই মসজিদটি লোকমুখে ‘নিদরিয়া’ (নি-দাড়ি বা দাড়িহীন) মসজিদ হিসেবে পরিচিতি পায়।
​দানশীলতা ও বিশাল ভূসম্পত্তি
​সুবেদার মনসুর খাঁ কেবল মসজিদটি নির্মাণই করেননি, এর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয়ভার বহনের জন্য ১০ একর ৫৬ শতক জমি মসজিদের নামে দান করে গেছেন। বিশাল এই এলাকা জুড়ে মসজিদের অবস্থান এবং এর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম।
​দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ
​মসজিদটির তিনটি গম্বুজ এবং মুঘল আমলের কারুকাজ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকেও পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান। প্রাচীন এই স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বর্তমানে এই মসজিদটি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
​বর্তমান অবস্থা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা
​প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও প্রাচীন এই স্থাপনাটির অনেক অংশ এখন জীর্ণ হয়ে পড়ছে। সঠিক সংস্কার ও তদারকির অভাবে এর দেওয়ালে শেওলা ও নোনা ধরছে। স্থানীয়রা জানান, যেহেতু এটি একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক সম্পদ এবং দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এটি দেখতে আসেন, তাই এর হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
​”আমাদের কিসমত নগরবনের এই নিদরিয়া মসজিদ আমাদের গর্ব। ১১৭৬ হিজরির এই ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সঠিক সংস্কার করা হলে এটি লালমনিরহাটের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে।” — স্থানীয় একজন প্রবীণ বাসিন্দা।
​উপসংহার
​লালমনিরহাটের কিসমত নগরবনের এই নিদরিয়া মসজিদ আমাদের প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্যের এক অমূল্য সম্পদ। সুবেদার মনসুর খাঁর স্মৃতি ও মুঘল স্থাপত্যের এই স্বাক্ষর রক্ষায় যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কার এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং