সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবিতে রামপালে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সকল সরকারি রেকর্ডীয় খাল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা ও সংরক্ষণের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৩ই আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১২ টায় রামপাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মূল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মল্লিক জিয়াউল হক।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার সরকারি খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং পরিবেশের চরম ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:
 * জরুরি চিহ্নিতকরণ: উপজেলার সকল সরকারি রেকর্ডীয় খাল অনতিবিলম্বে শনাক্ত করা।
 * সীমানা নির্ধারণ: সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি খুঁটি (পিলার) স্থাপন করা।
 * দখলদার উচ্ছেদ: অবৈধ দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ করে খালগুলো সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা।
 * খনন ও সংস্কার: খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় খনন ও সংস্কার কাজ শুরু করা।
 * নিয়মিত তদারকি: ভবিষ্যতে যেন কেউ পুনরায় খাল দখল করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাজী ওহিদুর রহমান, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো: এনামুল আলম মুন্সী, বিএনপি নেতা মো: ওবায়েদ সিকদার, মো: জাকির হোসেন এবং যুবদল নেতা মো: ইমরুল হোসেনসহ স্থানীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।