লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই প্রবাসী বাংলাদেশি শফিকুল ইসলাম এবং নাহিদুল ইসলাম–এর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহগুলো শনিবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছায়। সেখানে স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়।
দুই নিহতেরই বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে লেবানন-এ কর্মরত ছিলেন। গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
প্রায় এক মাসের কাছাকাছি সময়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে তাদের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হলো। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এ সময় সরকারের এই দ্রুত উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানান। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং রাতেই তা সাতক্ষীরায় তাদের নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
মরদেহ দেশে ফেরার পর সেগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে এবং জানাজা শেষে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় সাতক্ষীরা অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, বিশেষ করে নিহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর শোক ও বেদনার পরিবেশ বিরাজ করছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রবাসে নিহত ২ বাংলাদেশীর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, খুলনার সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদুর রহমান জানান, লাশ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরেই দাফন-কাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৈধভাবে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ৩ লাখ টাকা এবং জীবনবিমা বাবদ ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। ফলে নিহত শফিকুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম এবং আহত প্রবাসী শুভজিতের পরিবার নিয়ম অনুযায়ী মোট ১৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।


