বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাগুরায় অচল ১ ও ২ টাকার কয়েন: ব্যবসায়ীদের অদ্ভুত অনীহায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশের প্রচলিত মুদ্রা আইন অনুযায়ী ১ ও ২ টাকার কয়েন বৈধ সরকারি মুদ্রা এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে এটি লেনদেনের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ মাগুরার সাধারণ মানুষের কাছে এই কয়েন এখন এক প্রকার ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের অঘোষিত সিদ্ধান্তে মাগুরায় যেন এই কয়েনের কোনো বাজারমূল্যই নেই! কেন ব্যবসায়ীরা এই মুদ্রা গ্রহণ করতে চান না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা ও জনমনে ক্ষোভ।মাগুরার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মুদি দোকান—কোথাও এই কয়েন নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বিক্রেতারা। গ্রাহক যখন পণ্য কেনার পর অবশিষ্ট টাকা হিসেবে কয়েন নিতে বলছেন, তখন ব্যবসায়ীরা তা সরাসরি নাকচ করে দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহক কয়েন দিলে বিক্রেতারা রীতিমতো দুর্ব্যবহার করছেন।ভুক্তভোগী সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত এই মুদ্রা কেন অচল ঘোষণা করা হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই। ক্রেতাদের দাবি, পণ্য কেনাবেচায় কয়েক টাকার হিসাব মেলাতে এই কয়েনের বিকল্প নেই। কিন্তু বিক্রেতাদের এই অনীহার কারণে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকার পণ্য কিনতে হয় অথবা কয়েন ফেলে দিতে হয়।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অনেক সময় ব্যাংকগুলোতে কয়েন জমা দিতে গেলে কিছুটা ঝামেলা বা দীর্ঘ লাইনের সম্মুখীন হতে হয়, এই আলস্য থেকেই মূলত ব্যবসায়ীরা কয়েন গ্রহণে অনাগ্রহী। আবার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কয়েনের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টাও করছেন। অথচ রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলায় এই কয়েন দিব্যি সচল রয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের অভিমত, কোনো ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সরকারি মুদ্রা অচল ঘোষণা করার সুযোগ নেই। এটি মুদ্রার অবমাননা এবং প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।মাগুরার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কয়েনের এই সংকট কি ব্যবসায়ীদের খামখেয়ালিপনা নাকি এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে? অবিলম্বে মাগুরা জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং আইন অমান্যকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায়, সাধারণ মানুষ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে থাকবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং