সোমবার,৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোলায় গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

ভোলা শহরের উকিলপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে মিতু আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহত মিতু আক্তার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বশির আহমেদের মেয়ে। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সোহাগসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে সোহাগের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মিতুর ওপর স্বামী সোহাগ নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা, টেলিভিশন, ফ্রিজসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং একপর্যায়ে থানায় অভিযোগও করা হয়। পুলিশ কয়েকবার মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সোহাগ ফোন করে মিতুর মাকে জানায় যে মিতু গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উকিলপাড়ার বাসায় গিয়ে বিছানায় মিতুর নিথর দেহ দেখতে পান। এর আগেই স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাসা ছেড়ে চলে যায়।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন