বেলকুচিতে জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, ভূমিকম্প বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

“দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব,তারুন্যের বাংলাদেশ গড়ব” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে  জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, উপজেলা চত্বরে অগ্নিকান্ড ও ভূমিকম্প বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে একটি র‍্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার উপজেলায় এসে শেষ হয়।
পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মোঃ সাবেকুল ইসলাম দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে নিজেকে রক্ষা করতে করণীয় ও বর্জনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা মুলক বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ভূমিকম্প হলে তারাতারি করে বিল্ডিং থেকে বের হয়ে খালি মাঠে আশ্রয় নিতে, আবার বজ্রপাত হলে খালি মাঠ থেকে অতি দ্রুত ঘরে প্রবেশ করতে হবে। আশে পাশে ঘর দরজা না থাকলে গাছপালা থেকে দুরে থাকতে হবে, এমনকি পায়ে জুতা থাকলে জুতা না খুলে অবশ্যই জুতা পরে থাকতে হবে, সেই সাথে দুই হাতের আঙুল দুই কানের ভিতর দিয়ে ছোট্ট আকারে মাঠে বসে থাকতে হবে। উপজেলা চত্বরে খোলা মাঠে অগ্নিকান্ড মহড়া অনুষ্ঠানে বাড়ীতে আগুন লাগলে কিভাবে নিভাতে হয় ছাত্র ছাত্রী ও উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সরাসরি শিখিয়ে দেন তিনি, এমনকি আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন দেওয়ার জন্য সকলের মাঝে অফিসের হটলাইন নাম্বার দিয়ে অতিদ্রুত যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে,
১০ মার্চ সোমবার দুপুরে বেলকুচি উপজেলা সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন দিবস অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরিন জাহান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেলকুচি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ইশরাত জাহান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি উপজেলা সমাজসেবা অফিসার দেবাশীষ কুমার ঘোষ, বেলকুচি উপজেলা আনসার বাহিনী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ জহুরুল ইসলাম, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মোঃ রানা ইসলাম, বেলকুচি উপজেলা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য জাহিদুল হক মুক্তার, বাংলাদেশ রিপোর্টার্স ক্লাব বেলকুচি শাখার সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম সহ স্কুলের ছাত্র ছাত্রী, শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে মানবিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার: নতুন কমিটির মমিনুল, লায়লা ও রোজি

​বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, লালমনিরহাট ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৫–২০২৭)-এর নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নবনির্বাচিত এ কমিটিতে চেয়ারম্যান পদে এ কে এম মমিনুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পদে লায়লা হাবিব এবং সেক্রেটারি পদে অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি নির্বাচিত হয়েছেন।   ​এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন-আফজাল হোসেন, মজমুল হোসেন প্রামানিক, আবুল বাশার, আজিজুল ইসলাম ইউলাদ, হ.শ.ম জয়নুল আবেদীন স্বপন, রোকনুজ্জামান রোকন, এবি.এম ফেরদৌস এবং সাহেদুল ইসলাম পাটোয়ারী।   ​দায়িত্ব গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এ কে এম মমিনুল হক বলেন, “রেড ক্রিসেন্ট একটি আন্তর্জাতিক মানবিক প্রতিষ্ঠান। লালমনিরহাটের প্রান্তিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের নতুন কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আগামী দিনগুলোতে জেলার দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা জোরদার করা, বিনামূল্যে রক্তদান কর্মসূচি বিস্তৃত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তরুণ ও যুবদের স্বেচ্ছাসেবী কাজে উৎসাহিত করে লালমনিরহাটে রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও গণমুখী করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”   ​সংগঠনকে সুসংগঠিত ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রত্যয় ব্যক্ত করে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা হাবিব বলেন, “রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমকে প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দ্বারে পৌঁছে দিতে আমরা দলমত নির্বিশেষে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং নারী স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি থাকবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লালমনিরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটকে একটি আদর্শ মানবিক সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”   ​কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করার অঙ্গীকার জানিয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিন্নাত ফেরদৌস আরা রোজি বলেন, “আমাদের মূল শক্তি হলো তরুণ ও যুব স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণ সমাজকে মানবসেবায় যুক্ত করা হবে। শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি মানবিক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব। যেকোনো সংকটে লালমনিরহাটের মানুষের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট কাজ করে যাবে।”  

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।