শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী গ্রেফতার: র‍্যাব-১১

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খুনী, ডাকাত, অপহরণকারীসহ সংঘবদ্ধ অপরাধীদের গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও জটিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে র‍্যাব জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি আবাসিক ঘরে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিকটিম এনামুল হক শিশির মাহি (২৯) কে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তার চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে ২০২৬ আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৬, তারিখ ১৭/০৫/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০)। ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই র‍্যাব-১১ সিপিসি-২ ও র‍্যাব-৬ সিপিসি-১ এর যৌথ আভিযানিক দল আসামীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে প্রধান আসামীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে সাতক্ষীরা জেলার সদর থানাধীন ভোমরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী হলেন—জহির ইসলাম ওরফে আপন জহির হিজড়া (৪৬) ,পিতা: মৃত জাফর আলী ,মাতা: মাজেদা বেগম ,ঠিকানা: রামপাল, বুড়িচং বাজার সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকা, কুমিল্লা।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম ও গ্রেফতারকৃত আসামীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন একই সাথে বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে মাদক ব্যবসা ও অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর আসামীরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করে। তবে র‍্যাবের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং