শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও নানা কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ
দিনাজপুর প্রতিনিধি: মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় শহরের জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের অবদান জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা। এছাড়াও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে একে একে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় পুরো প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা, শোক এবং কৃতজ্ঞতার আবহ সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সবাই নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান এবং তাঁদের আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফেরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য, দেশের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্য কামনা করে দোয়ায় শরিক হন।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের গৃহীত কর্মসূচিতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁদের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।


