ফুটবল মানেই উন্মাদনা, আর প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার কোনো পরিমাপ নেই—সেই কথাটিই যেন নতুন করে প্রমাণ করলেন মাগুরার এক সাধারণ মানুষ। বিশ্বকাপের আমেজ কিংবা প্রিয় দলের জয়ের নেশায় মানুষ কত কিছুই না করে! তবে মাগুরা সদর উপজেলার পৌর ৩ নং ওয়ার্ডের ঘোড়ামারা গ্রামের আমজেদ মোল্লা যা করেছেন, তা কল্পনাকেও হার মানায়। প্রিয় দল জার্মানির প্রতি অন্ধ ভালোবাসা থেকে তিনি নিজের পৈত্রিক ভিটেমাটির একাংশ জমি বিক্রি করে তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল এক জার্মানি পতাকা।তার এই অকৃত্রিম ফুটবল প্রেম এখন পুরো মাগুরা জেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আজ এই বিশাল পতাকাটির প্রদর্শন ও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন মাগুরা পৌর বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব মাসুদ হাসান খান কিজিল। এ সময় তিনি আমজেদ মোল্লার এই অভূতপূর্ব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, “খেলাধুলার প্রতি এমন আবেগ ও ভালোবাসা সচরাচর দেখা যায় না। নিজের সর্বস্ব দিয়ে প্রিয় দলের প্রতি এমন আনুগত্য সত্যিই বিস্ময়কর। আমজেদ মোল্লা প্রমাণ করলেন, ভালোবাসার কাছে অর্থের কোনো মূল্য নেই।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্য কুতুবউদ্দিন এবং জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াশিকুর রহমান কল্লোল। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জার্মানি ফুটবল দলের অসংখ্য ভক্তবৃন্দ এ সময় উপস্থিত থেকে আমজেদ মোল্লাকে উৎসাহ জোগান।
পতাকাটির উদ্বোধনের সময় পুরো এলাকা যেন জার্মানির রঙে সেজে ওঠে। দীর্ঘ সাড়ে সাত কিলোমিটার পতাকা যখন মাঠ ও রাস্তার ওপর দিয়ে বিছিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা করে। উপস্থিত শত শত মানুষ এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।নিজের জমি বিক্রি করে পতাকা বানানোর বিষয়ে আমজেদ মোল্লা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জার্মানি আমার প্রাণের দল। তাদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি এই কাজটি করেছি। কষ্ট হলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই, আমি আমার দলকে এমনভাবে সম্মান জানাতে পেরে গর্বিত।”আমজেদ মোল্লার এই পাগলামিকে ঘিরে এখন মাগুরার ফুটবল প্রেমীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। একজন সাধারণ মানুষের এমন আকাশচুম্বী ভালোবাসা ফুটবল ভক্তদের মাঝে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।


