রবিবার,২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গমিরাহাটে মাদকবিরোধী কমিটির ওপর হামলা, মাদকসেবী ছিনতাই: ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী, থানায় এজাহার

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের প্রতিবাদ করায় ‘গমিরাহাট যুব ঐক্য ও মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটি’র নেতাকর্মীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাদক সেবনের অপরাধে আটককৃত রেজাউল ও মোক্তারুলের পরিবারের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে এই অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কমিটির হেফাজতে থাকা দুই মাদকসেবীকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
​গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এই বর্বরোচিত ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গমিরাহাট এলাকায় সর্বস্তরের জনগণ এক বিশাল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বের করে। পরে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীরা চিরিরবন্দর থানায় গিয়ে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
​ঘটনার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে প্রকাশ:
​লিখিত এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর অনুমান ১২:৩০ ঘটিকায় উপজেলার ১০নং পুনট্টি ইউনিয়নের গমিরাহাট গুচ্ছগ্রাম এলাকার জনৈক ফারুকের পরিত্যক্ত বাড়িতে দুই যুবক—রেজাউল ইসলাম (১৯) ও মোক্তারুল ইসলাম (২০) নিষিদ্ধ ‘ট্যাপেন্টাডল’ ট্যাবলেট সেবন করে মাতলামি করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ‘গমিরাহাট যুব ঐক্য ও মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৬) সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি ওই দুই যুবককে নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামসহ হাতেনাতে আটক করেন।
​রেজাউল ও মোক্তারুলকে আটকের খবর পেয়ে স্থানীয় মোঃ আনিছুর রহমানের (৩২) হুকুমে আটককৃত ওই দুই যুবকের পরিবারের লোকজনসহ ৮/১০ জনের একটি বেআইনি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে কমিটির সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কমিটির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে।
​হামলায় কমিটির সদস্য পাভেল সরকার (২৭), পিয়েল সরকার (২৫), আব্দুল্লাহ (১৮), জহুরুল আলম (২২), বরাত সরকার (১৮) ও কারিমুল ইসলাম (১৮) গুরুতর আহত হন। এই হট্টগোলের সুযোগে হামলাকারীরা আটককৃত ওই দুই মাদকসেবীকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তবে ঘটনার সময় যুব কমিটির তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি পরবর্তীতে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।
​পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি:
​ঘটনার পরপরই মাদকবিরোধী কমিটির নেতৃবৃন্দ চিরিরবন্দর থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুলিশ প্রশাসন থেকে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এজাহার দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই রাতেই (শুক্রবার রাত ৮টার দিকে) সংগঠনের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে চিরিরবন্দর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
​এদিকে মাদক কারবার ও সেবনের পক্ষ নিয়ে এমন ধৃষ্টতা ও হামলার ঘটনায় পুরো গমিরাহাট এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রতিবাদ মিছিল থেকে বক্তারা বলেন, “এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে গিয়ে যুবসমাজ আজ হামলার শিকার হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে সমস্ত আলামত ও সরঞ্জাম জমা দেওয়া হয়েছে, এখন আমরা দ্রুত এই হামলাকারী ও মাদকসেবীদের পরিবারের অপরাধীদের গ্রেফতার দেখতে চাই।” বর্তমানে পুরো এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসনের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

কাহালু উপজেলা প্রশাসনের অডিটোরিয়াম হলে ফলজ মেলা এবংপ্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ বীজ,সার বিতরণের উদ্বোধন

  কাহালু (বগুড়া) বগুড়াঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর