শুক্রবার,১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে জেলাপ্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে যানজটমুক্ত,জনগনের মনে স্বস্তি

কিশোরগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নেওয়া এ কার্যক্রমের ফলে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে এবং যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে প্রশাসন।
গত বুধবার (৩জুন) ​১১টায় শহরের বটতলা মোড় এলাকায় এ অভিযানের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেছে।
​দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল।এতে পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ফুটপাত ফাঁকা না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছিল, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলছিল।
​আজকের অভিযানে শহরের বটতলা মোড় থেকে একরামপুর মোড় পর্যন্ত ফুটপাতে গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,শহরকে যানজটমুক্ত ও পথচারীবান্ধব করতে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স  নীতি অনুসরণ করা হবে। উচ্ছেদ করা ফুটপাত যাতে আবারও দখল না হয়ে যায়,সেজন্য নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখবে প্রশাসন।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ।তাদের মতে, ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত হলে পথচারীদের চলাচল যেমন সহজ হবে, তেমনি কমবে শহরের তীব্র যানজট।
​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে ও নগর ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখতে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
​অভিযানকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ ‍সুপার (সদর সার্কেল) মো.শরিফুল হক,কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো.রফিকুল ইসলাম ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ ও পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,কিশোরগঞ্জ শহরের ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।এ লক্ষ্যে ছয়বার নোটিশ, গণবিজ্ঞপ্তি ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে দখলদারদের সতর্ক করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে বড় লোকের দোকানের এক্সটেনশন করা হচ্ছে। মানে স্থায়ী দোকানের বাইরে ফুটপাত দখল করে রাখা অতিরিক্ত অংশ উচ্ছেদ করা হবে, যাতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।পরবর্তী ধাপে সড়ক দখল করে ব্যবসা করা ভ্যানচালকদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
শহরটি সবার,কোনো ব্যক্তির নয়। তাই জনস্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে তাদের জন্য পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান বলেন,শহরে যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক সড়ক এখন চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের পক্ষ থেকে যানজট নিরসন, রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছিল।এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন,পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা ও সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।যারই ফলশ্রুতিতে আজকের এই অভিযান
জানা যায়, শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাত দখল এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন পথচারী ও যাত্রীরা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যান চলাচল নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
অভিযানের ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যানবাহনের গতি স্বাভাবিক হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও যাত্রীদের অনেকেই এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছেন।
সাধারণ নাগরিকরা জানান, আগে যেখানে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো, এখন তুলনামূলক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে যাতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং স্হায়ীভাবে নাগরিক ভোগান্তি কমবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং