নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কলমাকান্দা পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দখলকৃত জমি উদ্ধার এবং কলমাকান্দা নদী দখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে কোমলমতি শিক্ষার্থী,
অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
রোববার কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং কলমাকান্দা ব্রিজ এলাকায় পৃথকভাবে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসনের আদেশের ভিত্তিতে কলমাকান্দা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ৩ দশমিক ৯৩ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে ওই জমি বিদ্যালয়ের নামে নামজারি করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলে রয়েছে ২ দশমিক ৬২ একর। বাকি ১ দশমিক ৩১ একর জমি রঞ্জমোহন দত্ত গং-এর ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
তাদের অভিযোগ, দখলকৃত জায়গায় একসময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে কথিত কাগজপত্রের মাধ্যমে তারা জায়গাগুলো নিজেদের দখলে নিয়ে নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, কলমাকান্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গাও দখল হয়ে আছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ওই জায়গাটি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আমার হোসেন আজাদের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার মাধ্যমে দখল করা হয়েছিল।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ ও নামজারি করা জমি দ্রুত সরেজমিনে পরিমাপ করে প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা সব জমি উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় আন্দোলনকারীরা শুধু বিদ্যালয়ের জমি নয়, কলমাকান্দা নদীও দখলমুক্ত করার দাবি জানান। নদী দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কলমাকান্দা উপজেলা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ হাসান, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম. শাজাহান কবীর, চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এম আলমগীর সহ ব্যবসায়ী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি ও নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি জায়গা ও নদী দখলমুক্ত করে জনস্বার্থে ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার এবং কলমাকান্দা নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান তারা।