বৃহস্পতিবার,১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

​অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার শাহজাহান ও হৃদয়

খুলনায় বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া এবং তার নাতি শীর্ষ সন্ত্রাসী হৃদয় মির্জা। গতকাল এক বিশেষ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তারা যৌথভাবে আটক হন। এই খবর মাগুরায় ছড়িয়ে পড়ার পর অবরুদ্ধ ও নির্যাতিত সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দাদা-নাতির সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি থাকা নাকোলবাসী এখন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।১৪ বছরের দুঃশাসন ও ‘বাস ডাকাত’ শাহজাহানের অতীত স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান মিয়া টানা ১৪ বছর নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন পুরো এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য ও দুঃশাসন কায়েম করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন, জমি দখল এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে গভীর সখ্যতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমনকি গণমানুষের মুখে তিনি ‘বাস ডাকাত’ হিসেবেও কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার সীমাহীন অত্যাচার ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে গত নির্বাচনে নাকোল Unions জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাকে পরাজিত করেন। তবে ক্ষমতা হারালেও তার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নেটওয়ার্ক এখনও সচল রয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও চেয়ারম্যান পদে লড়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।ক্ষমতার ছায়ায় নাতি হৃদয়ের ‘১৬ মামলার’ অপরাধ সাম্রাজ্য দাদা শাহজাহান মিয়ার আদর্শ ও আশ্রয়েই গড়ে উঠেছে তার নাতি হৃদয় মির্জা। সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে পরিচিত এই হৃদয় মির্জা এলাকায় এক আতঙ্কের নাম। তার বিরুদ্ধে হত্যা (মার্ডার) মামলা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ১৬টি মামলা রয়েছে।
​অভিযোগ রয়েছে, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই হৃদয়ের নিজস্ব সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সে বিভিন্ন জেলায় নির্বাচনী সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। প্রতিবারই অপরাধ করে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, মামলার বাদীকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যেত এই দাদা-নাতি। কিছুদিন আগেও তারা দুজনেই কারাগারে ছিলেন, কিন্তু জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধ জগতে সক্রিয় হন।​রকি ও সোহাগের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ক্যাডার বাহিনী’can জানাযায়, হৃদয় মির্জার অপরাধ সাম্রাজ্যের মূল চালিকাশক্তি তার দুই বিশ্বস্ত সহযোগী। হৃদয়ের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত রকি সিকদার এবং ‘বাম হাত’ হিসেবে পরিচিত সোহাগ মন্ডল। বর্তমানে এই সোহাগ ও রকিই মূলত হৃদয়ের নির্দেশে field পর্যায়ের সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও নিজেদের লোক পুষে রেখেছে এই সিন্ডিকেট। বর্তমান ছাত্রদলের নাকোল ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মন্ডলসহ স্থানীয় ছাত্রদলের একটি অংশ হৃদয়ের সরাসরি অনুগত ও ‘পোষা বাহিনী’ হিসেবে কাজ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সব দলেই এই দাদা-নাতির লোক থাকায় তারা বরাবরই থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।​‘উত্তরাধিকার’ ঘোষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
​নাকোল ইউনিয়নকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে শাহজাহান মিয়া নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন—তার পর নাকোল ইউনিয়নের পরবর্তী চেয়ারম্যান হবে এই সন্ত্রাসী হৃদয় মির্জা। এই ঘোষণার পর থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও ভীতি বিরাজ করছিল। নাকোলবাসী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর কোনো সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী বা ডাকাতকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান না।মাগুরাবাসীর দাবি আর কোনো ছাড় নয়, খুলনায় বিপুল অস্ত্রসহ এই দুই শীর্ষ অপরাধী আটকের পর মাগুরার সর্বস্তরের মানুষ এখন একাট্টা। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই দুই গডফাদারের যেন আর কোনো আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে মুক্তি না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। মাগুরার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে এই সিন্ডিকেটের সম্পূর্ণ মূলোৎপাটন এবং অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের পিয়ারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং