অশান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে ইরানের অভিযোগ

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) একটি ‘জরুরি’ চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান। রোববার (১১ জানুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি চিঠিতে বলেছেন, কোনো রাষ্ট্রই ‘মানবাধিকার’ বা ‘জনগণের প্রতি সমর্থন’-এর অজুহাতে অন্য দেশের ভেতরে সহিংসতা উসকে দেওয়া, সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরির অধিকার রাখে না। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ বিকৃতি এবং এগুলোকে হুমকি বা হস্তক্ষেপমূলক নীতির বৈধতা দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, আন্তর্জাতিক আইনকে বিকৃত করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করা হলে তা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের কথা বলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বিকল্পসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শক্তিগুলো অর্থনৈতিক চাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

পৃথক এক ঘটনায় ইরান জানিয়েছে, লন্ডনে দেশটির দূতাবাসে হামলার ঘটনার পর এবং ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। এ সময় তাকে একটি কড়া প্রতিবাদপত্রও দেওয়া হয়।

ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর। প্রথমে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক দাবিতেও রূপ নেয়।

তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, বিক্ষোভের সংখ্যা বর্তমানে চূড়ান্ত সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১১১টি শহরের প্রায় ৩০০ স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। তাদের হিসাবে, এসব ঘটনায় প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো নিহত বা গ্রেপ্তারের কোনো আনুষ্ঠানিক জাতীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

লালমনিরহাটে আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুকছেন কৃষক

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় কৃষিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে চাষ হচ্ছে নানা রকম আগাম ও মৌসুমি জাতের সবজি।   সনাতন পদ্ধতির পাশা পাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন কৃষকেরা,জমিতে মালচিং পেপার, জৈব সার,মাটির গুনাগুন পরিক্ষা করে পরিমান মতো রাসায়নিক সার ব্যবহার এমনকি লতাজাতিয় সবজি চাষের জন্য মাচা তৈরিতে নেট ও কট সুতার ব্যবহারও করা হচ্ছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী  উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষকেরা, মুলত অতিবৃষ্টি ও রোদের কারনে যখন আশানুরূপ সবজি উৎপাদনে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে ঠিক তখনি কৃষকরা এ পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। এছাড়াও মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল ফলালে জমিতে সার প্রয়োগ ও কীটনাশক স্প্রে সহজ ভাবে করা যায়,সেই দিক থেকেও এ পদ্ধতি ব্যাপক সারা ফেলেছে,জমিতে এই পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করলে সেচ দিতে সুবিধা হয় অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করতে হয় না এবং ফলনও বেশি হয় বলে জানিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।   সাধারন পদ্ধতির চেয়ে মালচিং পেপার ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করা অনেক সহজ এ পদ্ধতিতে লেবার ব্যায় সহ অন্যন্য ব্যায় অনেক কম হয়। অতিমাত্রার রোদ বৃষ্টির কারনে সহজে ফসল নষ্ট হয় না এমনকি জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়।   লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ মতিউল আলম বলেন,কৃষিতে মালচিং ব্যবহার একটি ভাল দিক এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে ফসলের রোগবালাই কম হয় জমিতে দেওয়া সার নষ্ট হয় না এবং ভাল ফলন আশা করা যায়।