অবৈধ গ্যাস ব্যবহার শনাক্তকরণ, সিস্টেম লস হ্রাস এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র চলমান সাঁড়াশি অভিযানে একদিনেই একাধিক জেলায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে শিল্পকারখানা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে শতাধিক অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পাইপ জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব অভিযানের ফলে দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব হবে।
গত ১৫ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার নয়াপুর বাজার ও শিকদার বাড়ী, সাদীপুর এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সুহা তাবিলের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-সোনারগাঁও এবং জোনাল বিক্রয় অফিস-সোনারগাঁও এ অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানে ২টি অবৈধ চুনা কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং প্রায় ২,৩০০ আবাসিক ডাবল চুলার অবৈধ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এ সময় বিভিন্ন ব্যাসের ৯২ ফুট পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়। এতে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকার গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মিল্টন রায়ের নেতৃত্বে মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-২ এর জিনজিরা শাখার আওতাধীন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নামবিহীন ২টি তার কারখানার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং আনুমানিক ২৪০ ফুট জিআই ও এমএস পাইপ জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এতে মাসিক প্রায় ১২ লাখ ২১ হাজার ৫৬৫ টাকার গ্যাস সাশ্রয় সম্ভব হবে। প্রতিটি কারখানার সার্ভিস লাইন মাটির ৬ থেকে ৭ ফুট গভীরে সোর্স লাইন হতে কিলিং করা হয়েছে।
এছাড়া তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স শাখা-ময়মনসিংহের নেতৃত্বে মুক্তাগাছা ও শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১টি আবাসিক ও ১টি বাণিজ্যিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একইভাবে ভিজিল্যান্স শাখা (মেট্রো ঢাকা উত্তর) এর নেতৃত্বে মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-৪ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অভিযোগের ভিত্তিতে ‘জে.এস ওয়াশিং’-এর অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
কর্তৃপক্ষীয় নির্দেশনার আলোকে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় সিস্টেম লস হ্রাস ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়। জোবিঅ নারায়ণগঞ্জ, জোবিঅ ফতুল্লা-কুতুবপুর এবং জোবিঅ এনায়েতনগর-কাশিপুর এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অবৈধ সংযোগ ১৯টি, অনুমোদনের অতিরিক্ত স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ৮টি এবং বকেয়ার দায়ে ১২টি সংযোগসহ মোট ৩৯টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে ৩১৫টি ডাবল চুলার সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আঞ্চলিক রাজস্ব শাখা-সোনারগাঁও অভিযান চালিয়ে ৭টি আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। একই সময়ে আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ-জয়দেবপুরের নেতৃত্বে জোবিঅ-জয়দেবপুরের কুনিয়া মধ্যপাড়া, বোর্ডবাজার ও গাজীপুর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে বকেয়ার দায়ে ২১টি, অনুমোদনের অতিরিক্ত স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ১৬টি এবং অবৈধ সংযোগ ২৭টি সহ মোট ৬৪টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। আনুমানিক ১৩৬টি ডাবল চুলার সংযোগ কেটে দেওয়া হয় এবং প্রায় ১৩০ ফুট পাইপ জব্দ/অপসারণ করা হয়েছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র ব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মোঃ আল আমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে সকলকে আইনানুগভাবে গ্যাস ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।


