ফরিদপুরের সালথায় কয়েক গ্রামের লোক ভাড়া করে এনে প্রতিপক্ষের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে স্থানীয় দুই বিএনপি নেতা ও এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। আজ রবিবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন রাঙ্গারদিয়া গ্রামের ভুক্তভোগীরা।
রাঙ্গারদিয়া গ্রামে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে সালথা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহিদ হাসান লাভলু, সালথা সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক এবং বিএনপি নেতা মো. সাখাওয়াত হোসেন জয়নাল ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী সোহেল রানা ফরহাদের নাম উল্লেখ করে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্ত মো. বাদশা মোল্যা, মো. ওবায়দুর খান, সুমন সরদার ও নাসিমা বেগম। এ সময় মানববন্ধনে সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় গন্যমান্য বক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বিগত ১০ বছর সাবেক এমপি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর আস্থাভাজন যুবলীগ নেতা ফরহাদের অত্যাচারে ছিলাম আমরা। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফরহাদ খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি নেতা লাভলু ও জয়নালের সাথে যোগ দেন। এরপর তারা একজোট হয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাদের নির্দেশে কোনো কারণ ছাড়াই শনিবার সকালে আমাদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট ও আগুন দেওয়া হয়। আমরা এর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং অভিযুক্ত নেতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আকিকার মাংস ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয় রাঙ্গারদিয়া গ্রামের উজ্জল মোল্যার সাথে তার আপন ভাই ফারুক মোল্যার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে উজ্জলের ছেলেকে জুতা দিয়ে পেটায় তার ভাই ফারুক। এর মধ্যে উজ্জল মোল্যা স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফরহাদ মোল্যার সমর্থক আর ফারুক মোল্যা জালাল মাতুব্বরের সমর্থক। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। উত্তেজনার মধ্যেই যুবলীগ নেতা ফরহাদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নুকে সমর্থন করেন স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা লাভলু ও সালথা সরকারি কলেজের বাংলা প্রভাষক শাখাওয়াত হোসেন জয়নাল।
শনিবার সকালে বিএনপি নেতা প্রভাষক শাখাওয়াত হোসেন জয়নাল ও যুবলীগ নেতা ফরহাদ পাশের যুদনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া, সোনাপুর ও রঙ্গরায়েরকান্দী গ্রাম থেকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ সহ¯্রাধিক লোক ভাড়া করে এনে রাঙ্গারদিয়া গ্রামের জালাল মাতুব্বরের সমর্থকদের অন্তত ৩০টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট করে। এ সময় আব্দুল হাই নামে এক ব্যক্তির একতলা বিল্ডিংয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।