রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় কম্বাইন হারভেস্টার দ্বারা সমলয় প্রদর্শনীর বোরো ধান কর্তনের উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাহিদুর রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সমলয় প্রদর্শনীর ব্যবস্থার আওতায় উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর পাচুরিয়া এলাকায় ৫০ হেক্টর (১৫০ বিঘা) জমিতে এই কর্তন কর্মসূচীর আওতায় রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে দ্রুত ধান কেটে গোলায় তুলছেন তারা। বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে এবছর উপজেলায় ৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।
শ্রমিক দিয়ে প্রতি বিঘা জমির বোরো ধান কাটা ও মাড়াই করতে প্রায় চার হাজার টাকা খরচ হয়। আর কম্বাইন হারভেস্টারে প্রতি বিঘা জমির ধান, কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি করতে খরচ হয় ১৮০০/২০০০ টাকা। এতে কৃষকের সময় ও টাকা দুটোই বাচে।
কৃষক মোঃ লোকমান বলেন, সমলয় পদ্ধতিতে( ধান রোপণের আধুনিক যন্ত্র) ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। ধান পাকার পর কম্বাইন হারভেস্টারে দ্রুত সময়ে ধান কেটে, মাড়াই করে বস্তাবন্দি করেছি। এতে আমার অনেক টাকা সাশ্রয় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখানে সবচাইতে ভালো ধান হয়েছে আমার।
আরেক কৃষক আঃ মাজেদ আলী মোল্লা বলেন, কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে খুব সহজেই জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই করে বস্তাবন্দি করা যায়। শুয়ে পড়া ধান ও কাদাপানির ধানও খুব সহজেই কাটা যায় এই যন্ত্রের মাধ্যমে। চার বিঘা জমির ধান অল্প সময়েই কেটে মাড়াই করে বস্তাবন্দি করে ঘরে তুলছি। শ্রমিক দিয়ে এই কাজ করলে প্রতি বিঘায় ৪০০০ টাকা খরচ হতো। কিন্তু হারভেস্টারে খরচ হয়েছে বিঘায় ২০০০ টাকা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি প্রকৌশলী ডঃ শাহ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। শ্রমিক সংকটের এসময়ে সমলয় পদ্ধতি একটি কার্যকরী পদ্ধতি। কারন এই শ্রমিক সংকটের সময় প্রতি বিঘা ধান কর্তন ও মাড়াই করতে একজন কৃষকের খরচ যেমন অর্ধেকে নেমে এসেছে তেমনি সময় কমে আসছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাহিদুর রহমান বলেন, এই পদ্ধতি কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব এনেছে। এসময় শ্রমিক সংকট দেখা দেয় তাছাড়া যখন তখন বৃষ্টির ফলে শস্যের ক্ষতি হয়। কিন্তু হারভেস্টার দিয়ে ধান কর্তনের ফলে একজন কৃষকের সময় যেমন কমে এসেছে তেমনি খরচও অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাছাড়া একই সঙ্গে বীজতলা, চারা রোপণ ও কর্তনে শ্রমিক সংকটের সমাধান এ পদ্ধতি। এতে কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশাবাদী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরা আফরোজ সুবর্না, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বক্কার, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মোঃ নিজাম উদ্দীন, উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনন্দ কুমার বিশ্বাস, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার মিয়া, স্থানীয় উপসহকারী মোঃ সোহেল শেখ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন