
খ,ম,জায়েদ হোসেন
ভাতের পরই বাংলাদেশে যে খাদ্যের চাহিদা বেশি সেটি হলো গম বা ময়দা। আর আটা- ময়দা আসে গম থেকেই। এক সময় নাসির নগর উপজেলায় ব্যাপক হারে গম চাষকরা হতো।
কৃষিপ্রধান জেলা ব্রাহ্মণবাড়ীয়া খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে কৃষি নির্ভর জেলা নামেও পরিচিত। এখানে সব ধরনের ফসল ও শস্য উৎপাদন হলেও দেশের মোট উৎপাদিত ধানের সিংহভাগই হয় এ জেলায়। তবে এ জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ধান,সহ অন্যান্য ফসলের আবাদ বেশি হলেও দিন দিন গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে কয়েক বছরে ধীরে ধীরে এ উপজেলায় কমেছে গম চাষ।
গম লাভজনক ফসল হলেও কৃষকেরা বলছেন আগ্রহ হারানোর পেছনে অন্যতম কারণ উৎপাদন খরচের তুলনায় মুনাফা না পাওয়া এবং ইরি ধানের প্রভাবে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে গম চাষ। এদিকে কৃষি অধিদপ্তর মনে করছে, অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে ভূট্টার অধিক ফলন ও মুনাফা হওয়ায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়,
চলিত মৌসুমে উপজেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫০ হেক্টর ।আবাদযোগ্য জমির পরিমান ৪০হেক্টর জমিতে গম চাষ হলেও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসাইন জানান, গম চাষে তুলনামূলক সেচ কম লাগে এবং অল্প সময়ে ফসল উত্তোলন করা যায়, যার ফলে ধীরে ধীরে আগ্রহী কৃষকদের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ গম চাষীদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী,ফিল্ড টেকনোলজি ওরিয়েন্টেশনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের পাশে থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
আবাদযোগ্য গম জাতের মধ্যে রয়েছে বারিগম-৩০,বারিগম -৩২,বারিগম- ৩৩
এবং BWMRI গম-১
নাসির নগর উপজেলায় দিন দিন গমের চাষ ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছে। মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী থাকলেও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, এমনকি ফলন কম হওয়ার কারণে গম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন কৃষকরা। নানাবিধ কারণে এ উপজেলার গম চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। বিগত দিনে এ উপজেলায় গম চাষে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও বর্তমান সময়ে গম চাষে কৃষকরা অনাগ্রহী। এ উপজেলার কৃষকরা মনে করেন গম চাষের চেয়ে অন্য ফসল চাষ করে তুলনামূলকভাবে অনেক লাভবান হওয়া যায়। সেজন্য গমের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষ করছেন।
উপজেলার ফান্দাউক,বুড়িশ্বর, চাপরতলা,গুনিয়াউক,ধরমন্ডল ইউনিয়নে গমের চাষ চলমান থাকলেও অন্যান্য ইউনিয়নে আগের মতো গম চাষ হয় বলেই চলে। ফান্দাউক ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমি বিগতদিন ভূট্টা চাষ করতাম। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী গম চাষ করেছি। বর্তমানে আমার ফসলের অবস্থা খুব ভালো। আশা করছি ফলনও ভালো পাবো।
উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন, আমি সাধারণত ধানের আবাদ বেশি পরিমানে করে থাকি। কিন্তু এবার গমের আবাদও করেছি। জমিতে এসে ফসল দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়। আগামী বছরে আমি সরকারী সহযোগিতা পেলে আরো বেশি জমিতে গমের চাষ করবো।
এছাড়া অন্যান্য উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, সরকারিভাবে তারা সহযোগিতা পেলে ধান চাষের পাশাপাশি গম চাষ করতে পারবেন। ধান চাষের উপর কৃষকদের আগ্রহ ও ফলন বৃদ্ধি করতে যেমন বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে, একইভাবে কৃষকদের গম চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিলে চাষে আগ্রহী হবেন কৃষকরা।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে গম চাষ কমে গেছে। প্রদর্শনীর আয়োজন করে কিছু চাষিকে সার ও গমের বীজ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এ বছরে গম চাষের উপর কৃষকের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। গম চাষের উপযোগী জমিতে উচ্চ মূল্যের সবজি চাষ ও উচ্চ ফলনশীল ইরি ধান চাষে,গম চাষ কমে যাওয়ার একটি কারণ।