প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 30, 2025 ইং
সমস্ত দলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টিকাদান কেন্দ্র বন্ধ

এমরুল এমরুল
এক লক্ষ বিশ হাজার টিকা কেন্দ্রের টিকা দান কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে।গত ২৪-১১-২৫ বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি প্রস্তাবনা মেনে মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত ধর্ম বিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবি হচ্ছে নিয়োগ বিধি সংশোধন ,টেকনিক্যাল পদমর্যাদা, শিক্ষকতা যোগ্যতা স্নাতক / সমমান সংযোজন, ইন সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১ তম গ্রেডে উন্নতি করন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রদান। স্বাস্থ্য সহকারীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পাদদেশে স্বাস্থ্য সহকারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশন এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বরিশাল জেলা অমিতাব বিশ্বাস জানিয়েছে ,আমরা সারা বছর রোদ বৃষ্টি এমন কি দুর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়া চরম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিশেষ করে মা ও শিশু কে টিকা প্রদান ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে থাকি। স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের কারণে সমস্ত বিশ্বে টিকা দানে বাংলাদেশের রোল মেডেল হিসেবে পরিচিত। স্বাস্থ্য সহকারীদের সঠিকভাবে টিকা ধানের জন্য বাংলাদেশ থেকে পোলিও মুক্ত বসন্ত মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বিগত দিনে টিকাদানের সফলতার জন্য ভ্যাকসিন হিরো ও সাউথ সাউথ সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য সহকারীদের কাজের সফলতা স্বাস্থ্য বিভাগের গর্ব সেই স্বাস্থ্য সহকারেই সবচেয়ে অবহেলিত ও বৈষম্য শিকার ।স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবি আমরা পৃথিবীর সেরা জীব মানুষকে টিকা দিয়ে থাকে কিন্তু আমরা টেকনিক্যাল পদমর্যাদা পাই না। পক্ষান্তরে যারা হাঁস মুরগি গরু ছাগলকে টিক দ্যায় তারা টেকনিক্যাল পদমর্যাদা পায় ।এই বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবির যৌক্তিক বলেন 27 বছর আগে কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে আজ ও বাস্তবায়ন হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ৬ হাজার লোকের বিপরীতে একজন স্বাস্থ্য সহকারী থাকার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র হচ্ছে একজন স্বাস্থ্য সহকারীর বিপরীতে প্রায় ১৮ থেকে ২০হাজার জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে একজন স্বাস্থ্য সহকারী। প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারী বিধান হিসেবে ৩ থেকে ৭ বছরের মধ্যে পদোন্নতির কথা থাকলেও স্বাস্থ্য সহকারীর পদধনুদীর ক্ষেত্রে ২০ বছরের বেশি সময় লাগে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে। এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে সময় লাগে প্রায় 28 থেকে 29 বছর তার মানে হচ্ছে চাকরির মাত্র ৬ থেকে ৮ মাস অবসরের বাকি থাকার সময় পদোন্নতি পায় স্বাস্থ্য পরিদর্শক। সেই সময় পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়। ১৯৯৮ সালে ৬ ডিসেম্বর সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেতন বৈষম্য নিরোশন টেকনিক্যাল পদমর্যাদা বাস্তবায়ন এর কথা দিলেও আওতা আলোর মুখ দেখেনি ।এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়নে আশ্বাস দিলেও তাও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৬ সালে ২০ শে ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহকারীদের ঢাকা বিভাগ সমাবেশে ওই সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবি যৌক্তিক বলে সাত দিন সময় নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ৩০ শে ডিসেম্বর অন্য এক সমাবেশে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের সময় কেন্দ্রীয় নেতারা ২০১৮ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ সমস্ত বাংলাদেশে এক লাখ বিশ হাজার টিকাদান কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দিয়ে কর্ম বিরতিতে যান । কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মহাপরিচালক সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি মেনে নিলে স্বাস্থ্য সহকারীরা কাজে ফিরে যান পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি ।২০২০ সালে পুনরায় কর্ম বিরতি দিলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের রেজুলেশনের মাধ্যমে দাবি পূরণ করার আশ্বাস দেয়া হয়। তাও বাস্তবায়ন হয়নি। ২৫ মে ২৫ তারিখ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা তিন মাসের সময় নিলে তাও কোন অগ্রগতি না করে সময় ক্ষেপণ করেন ২৬ শে জুলাই ২০২৫ তারিখ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক মাসের সময় বেঁধে দিয়েছিল হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটি। শেষ সময় ও কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। পুনরায় ১ অক্টোবর ২০২৫ সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করে বাংলাদেশ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের ব্যানারে বাংলাদেশের সমস্ত স্বাস্থ্য সহকারীরা।কয়দিন পরে পুনরায় দাবী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু এই সকল প্রতিশ্রুতি ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি । ২৭ বছরের সকল প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তথা পিও স্বাস্থ্য সহকারীরা কাজে ফির স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েড টিকা প্রদান করে। কোন ভাবেই আলোর মুখ দেখেনি স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবি। ২৪/১১/ ২০২৫ তারিখ পুনরায় স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশন নেতারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় কে প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানালেও সে ব্যাপারে কর্ণপাত করেনি মন্ত্রণালয়।তাই পুনরায় স্বাস্থ্য সহকারীরা এক লাখ বিশ হাজার টিকাদান কেন্দ্র টিকা পরিচালনা কর্মসূচি স্থাপিত করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ৬৪ জেলা থেকে আগত প্রায় ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক স্বাস্থ্য পরিদর্শক গন ।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।