প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 27, 2025 ইং
নবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক সিতাকোট বৌদ্ধবিহার আজও বেহাল অবস্থা

দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জে ❝সীতাকোট বৌদ্ধ বিহার❞ এর বেহাল অবস্থা। সংস্কারের অভাবে ভেঙে যাচ্ছে মূল স্থাপনার বিভিন্ন অংশ। সীমানা বেষ্টনী না থাকায় পরিণত হয়েছে চারণভূমিতে। দীর্ঘদিনেও হয়নি সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। তবে স্থানীয়রা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজসহ নিদর্শনটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের শালবন সংলগ্ল উপজেলার ফতেপুর মাড়াষ মৌজায় প্রায় ৩ একর ভূমিজুড়ে সীতার কোর্ট বিহার। জনশ্রুতি রয়েছে- রামপত্নী সীতাকে পঞ্চবটীর বনের গভীরে বনবাস দিয়ে থাকার জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল একটি কুঠুরি। সেই কুঠুরিই আজকের সীতার কোর্ট। প্রায় সাড়ে তিনশ বর্গফুটের বিহারটিতে ছোট বড় ৪১টি কক্ষ রয়েছে। নিপুণ হাতের গাঁথুনি ইমারতের লম্বা, মধ্যম ও ছোট ছোট ইট এবং চুনি-সুরকি দ্বারা বিহারটি নির্মিত। জানা গেছে, ১৯৬৮ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অনুসন্ধানকারী একটি দল নিদর্শনের আংশিক অংশ খননের পর নিশ্চিত হয় এটা একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। কিন্তু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখনো তাদের তীর্থস্থান মেনে আসেন এ বিহারকে। খননের সময় বিহারের কিছু অংশ সংস্কার করা হয়। ফলে ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটির মূল স্থাপনা ভেঙে যাচ্ছে। একজন নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও সীমানা বেষ্টনী না থাকায় বিহারটি চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে বিপুল পর্যটক আনাগোনা থাকলেও বিহারে নেই পানি, শৌচাগারসহ বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা। ফলে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীর ভোগান্তির শেষ নেই। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ঐতিহাসিক সীতার কোট বৌদ্ধ বিহারটি সংস্কারসহ বিনোদনের ব্যবস্থা করা হলে তা থেকে সরকার রাজস্ব আয় ও বেকারদের কর্মসংস্থানের পদ সৃষ্টি হবে এবং তাই এলাকার লোকজন স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।