মোঃ হোসেন সাগর 
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুধের বাজারে একটি শক্তিশালী ঘোষ সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ন্যায্য দাম থেকে 
বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা।
 পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে যেখানে প্রতি লিটার দুধের
 দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, সেখানে শেরপুরে
 প্রতিদিন দুধের দাম ওঠানামা করছে মাত্র ৩৭ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। 
এতে করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ছোট ও মাঝারি খামারিরা। 
ভুক্তভোগী খামারিরা অবিলম্বে দুধের বাজারে প্রশাসনিক মনিটরিং,
 সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খামার
 শিল্পে বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা ।
খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে 
স্থানীয় ঘোষদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। 
তাদের নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ দুধ বিক্রি করতে পারছেন না।
ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় দুধের দাম অনেক কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
গাভী লালন-পালনের খরচ দিন দিন বাড়ছে, অথচ দুধের দাম বাড়ছে না।
 ঘোষরা যা দাম দেয়, তা নিয়েই আমাদের সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।
 না দিলে দুধ কেউ নিতে চায় না। এই দামে আমাদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। 
খাবারের দাম এত বেশি, ওষুধ আর চিকিৎসা খরচও কম নয়। এই অবস্থায় দুধের ন্যায্য 
দাম না পেলে অনেকেই খামার বন্ধ করতে বাধ্য হবে।
এদিকে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। 
খামারিদের মতে, বর্তমানে গো-খাদ্য ভুসির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৫০
 টাকা হলেও দুধের দাম মিলছে সর্বনিম্ন ৩৭ টাকা। এতে গাভীর খাবার 
জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়ায কাজমীর বলেন, 
খামারিরা যেন ক্ষতির মুখে না পড়ে সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। 
কারণ খামারিরা দেশের প্রান।দুধের বাজারে ঘোষরা যদি সিন্ডিকেট করে
 খামারির ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে 
বাজারে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হবে।