
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-৪৬/১ (নিয়ামতপুর–পোরশা–সাপাহার) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তৎপরতা, গণসংযোগ, পথসভা ও ইশতেহারভিত্তিক প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। তিন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের তিন প্রার্থী এবং তিন প্রতীকের প্রচারণা জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পুরো এলাকায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এই আসনে শেষ পর্যন্ত কার হাতে বিজয়ের মালা উঠবে?
হাতপাখা মার্কায় ইসলামী আন্দোলনের সক্রিয় প্রচারণা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী, বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন ও সমাজসেবক জননেতা আলহাজ্ব মাওলানা হাফেজ আব্দুল হক শাহ্ চৌধুরী হাতপাখা প্রতীকে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার প্রচারের মূল বার্তা—“দেশ ও জাতির কল্যাণে নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।”
তিনি নারী ও যুবসমাজের দাবি-দাওয়া পূরণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক জনসংযোগ, হাটবাজারে উপস্থিতি এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন।
ধানের শীষ প্রতীকে মোস্তাফিজুর রহমানের উত্থান
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, তৃণমূলের পরিচিত হ্যাভিওয়েট নেতা জননেতা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে প্রচারণায় জানাচ্ছেন।
নারী, যুব ও কর্মসংস্থান ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন।
পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুরের গ্রামাঞ্চলে গণসংযোগে মানুষের উল্লেখযোগ্য সাড়া দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দাড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থীও আলোচনায়
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ মাহবুবুল আলম দাড়িপাল্লা প্রতীকে মাঠে নেমেছেন।
তিনি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশেষত যুবসমাজের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের শক্ত উপস্থিতি এবং শিক্ষিত তরুণ ভোটারদের সমর্থনকে তিনি নিজের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা: কে এগিয়ে?
এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের অবস্থা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-
ধানের শীষের মোস্তাফিজুর রহমান আপাতত জনসমর্থনে এগিয়ে আছেন।
দাড়িপাল্লার অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম ঘনিষ্ঠভাবে পিছনে অবস্থান করছেন।
হাতপাখার মাওলানা আব্দুল হক শাহ্ চৌধুরীও আলোচনায় রয়েছেন এবং প্রতিদিনই সমর্থন বাড়ছে।
পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর—তিন উপজেলার বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন তিন দল—তিন প্রতীককে ঘিরে।
স্থানীয়রা বলছেন, “এবার নওগাঁ-১ আসনে প্রকৃত অর্থে ত্রিমুখী লড়াই দেখা যাচ্ছে।”
প্রচারণা যতই এগোচ্ছে, মাঠের উত্তাপও ততই বাড়ছে।
কার পক্ষে ভোটের হিসেব গড়ে উঠবে, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী দিনের ফলাফল পর্যন্ত।
তবে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার—
নওগাঁ-৪৬/১ আসনটি এবার নির্বাচনে সবচেয়ে নজরকাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি হতে যাচ্ছে।