প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 24, 2025 ইং
ধানের দাম কম থাকায় নওগাঁর কৃষকদের মাথায় হাত

এম.ডি রনি ইসলাম
নওগাঁ জেলায় চলতি মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াই সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই বাকি। কৃষকরা বলছেন, মৌসুমের মধ্যভাগে রয়েছে কাজ, পুরোপুরি শেষ হতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে। এমত অবস্থায় বাজারে ধানের কম দাম নিয়ে তারা আরও বেশি উদ্বিগ্ন।
সরকার চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ ১,৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু স্থানীয় নিয়ামতপুর ছাতড়াহাট, মহাদেবপুর, মাতাজি ও মান্দা চৌবাড়িহাট,মান্দা দেলুয়াবাড়ী হাট, সতীহাটসহ আরও কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে জানাগেছে, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১,০৫০ থেকে ১,১০০ টাকা দরে, যা ঘোষিত দামের তুলনায় অনেক কম।
মান্দা উপজেলার চকশ্রীকৃষ্ণ গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম (৫৩) বলেন, এখনো আমাদের অনেক জমির ধান কাটতে বাকি। শ্রমিক ও সারের দাম অনেক বেশি। কিন্তু বাজারে দাম শুনলেই বুক ভেঙে যায়। মণপ্রতি ১,০৫০ টাকায় ধান বিক্রি করলে
লোকসান ছাড়া আর কিছু থাকে না।' মহাদেবপুরের কৃষক রেজাউল (৪৮) বলেন, সরকার দরে ধান কেনে খুব অল্প পরিমাণে। আর বাজারে দালালরা কম দামে কিনে নিচ্ছে। এখনো অনেক ধান কাটতে বাকি- যদি দাম আরও কমে, তাহলে বড় বিপদে পড়বো।
রাতদিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।' অন্যদিকে ধান ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ধানের সরবরাহ বাড়ছে, কিন্তু বিনিয়োগে নগদের সংকট এবং মিল মালিকদের কম কেনার কারণে দাম ধরে রাখা যাচ্ছে না।
মান্দা উপজেলার ধান ব্যবসায়ী মোঃ সাগর হোসেন বলেন , ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন কঠিন হয়ে গেছে। মিলগুলোও ধান কম কিনছে। তাই আমরা বেশি দামে ধান কেনার অবস্থায় নেই।"
সরবরাহ বাড়ছে। কিন্তু নগদ অর্থ সংকটের কারনে দাম বাড়ানো যাচ্ছে না।'
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা, হোমায়রা মন্ডল বলেন, এখনো জেলার প্রায় অর্ধেক ধান কাটাই বাকি রয়েছে। ধান কাটার গতি বাড়ায় বাজারে সরবরাহও বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা যাতে ক্রয়কেন্দ্রে ধান দিতে পারেন, সে বিষয়েও আমরা নজরদারি করছি।" কৃষকদের অভিযোগ- সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের জটিলতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের নগদ সংকট সব মিলিয়ে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এভাবে দাম কম থাকলে ধান কাটা শেষ হতে হতেই আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আগামী মৌসুমে চাষ করতে অনেকেই সাহস পাবে না।'
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।