
মোহাম্মদ আলী মাস্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) সংসদীয় আসনে এখনো দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে লড়াই করতে চান অর্ধ ডর্জনেরও বেশি প্রার্থী। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা না হলেও হাল চারেনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে কাজ করছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মোঃ শামীম, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মোঃ আহসান উদ্দিন খান শিপন, কেন্দ্রীয় হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস,এন,তরুণ দে, ড্যাব নেতা ডাঃ নাজমুল হুদা বিপ্লব ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্করসহ বিএনপির ৮ জন প্রার্থী। এই আসনটিতে বিএনপি এখনো তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। আলোচনায় আছে এই আসনটিতে বিএনপি জোটের শরীক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবিব মনোনয়ন পেতে পারেন। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীও হতে পারেন এমন আলোচনাও রয়েছে চুন্টায় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আঃ রহিমকে নিয়ে। এই আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষনা না করার কারনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ। নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলায় ৫টি মেডিকেল ক্যাম্প করেছেন এরমধ্যে আশুগঞ্জে ২টি এবং সরাইলে ৩টি ক্যাম্প করা হয়। প্রতিবন্ধিদের মাঝে বিতরণ করা হয় হুইল চেয়ার। প্রার্থী হিসেবেও মোবারক হোসেন আকন্দের আলাদা ভাবমূর্তি প্রতিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি সরাইল আশুগঞ্জ এবং বিজয় নগরে সকলের কাছে একজন পরিচিত ব্যক্তি। নির্বাচনী এলাকার আশুগঞ্জ উপজেলার আন্দিদিল গ্রামের বাসিন্দা তিনি । এই উপজেলায় বিএনপি’র একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দল থেকে মনোনয়ন ঘোষনা না করায় আপাতত মোবারক হোসেন আকন্দ ছাড়া আশুগঞ্জ উপজেলা থেকে আর কোন প্রার্থী নেই। সেই হিসেবে এলাকার মানুষ হিসেবে তিনি বাড়তি সুবিধে পাবেন। ওদিকে সরাইল উপজেলায় জামায়াত প্রার্থী করে নিচ্ছেন শক্ত অবস্থান। এই নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডেও জামায়াতের নেতা কর্মীরা গত ৫/৬ মাস আগে থেকেই ভোটের জন্য মানুষের কাছে যাচ্ছেন। প্রার্থী নিজে উপস্থিত থেকে গ্রামে পাড়া মহল্লায় সভা সেমিনার ও উঠান বৈঠক করছেন নিয়মিত। সরাইল উপজেলার বিএনপির দাবি এই আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন না দিলে জামায়াতের প্রার্থী অনায়াসে ভাল করবে। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী চান বিএনপির নেতা কর্মি ও সমর্থকরস। এই আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বাইরে অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে জামায়াত প্রার্থীর ভাগ্য খুলে যাবে।নির্বাচনী এলাকার প্রায় সর্বত্রই তারা উঠান বৈঠক করে প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। উপজেলা বিএনপি’র সর্বস্থরের নেতাদের দাবী আমরা ধানের শীষ প্রতীকের দলীয় প্রার্থী চাই। আশা করছি বিএনপি সরকার গঠন করবে। তাই দলীয় এমপি দিয়ে এলাকার যতটুকু উন্নয়ন হবে, জোটের এমপি’র দ্বারা ততটুকু সম্ভব নাও হতে পারে। মূলত সরাইল আশুগঞ্জের মাটি বিএনপির ঘাটি বলে খ্যাত। উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাবের উদ্দিন প্রজাবন্ধুকে জানান , আমরা প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার আগেই মানুষের সেবা করার চেষ্টা করছি। এই আসনে আমাদের দলীয় প্রার্থী এমপি হতে পারলে সকল ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকার প্রায় ৬০/৭০ ভাগ গ্রামের তার গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক শেষ হয়েছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির কোন তৎপরতা নেই। জাসদ রব থেকে এডঃ তৈমুর রেজা মোঃ শাহজাদা ভূইয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা আশরাফ মাহাদী এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টি থেকে দেবদাস সিংহ রায়, খেলাফতে মজলিশের মাওলানা মাইনুল ইসলাম খন্দকার ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা নেছার আহমেদ, নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই তাদের নির্বাচনী কর্মকান্ড শুরু করেছেন।
এব্যাপারে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুজ্জামান তপু বলেন, আমরা তারই নির্বাচন করবো তারেক জিয়া যাকে মনোনয়ন দেবেন হউক বিএনপির হউক জোটের।
নির্বাচনী এলাকার সরাইলে ০৯, আশুগঞ্জে ০৮,ও বিজয়নগরের ০২টি নিয়ে মোট ১৯টি ইউনিয়নের ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৯৭। বর্তমানে পুরুষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৩৯ জন,, মহিলা ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৬ জন ও হিজড়া ২ জন। সরাইল উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৬। আশুগঞ্জ উপজেলায় ৮ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৪ জন। এছাড়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ও বুধন্তী ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ৫৬ হাজার ৯২৭।