তারিকুল ইসলাম
জয়পুরহাট-২ (কালাই–ক্ষেতলাল–আক্কেলপুর) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নকে ঘিরে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাবেক সচিব আব্দুল বারীকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সাবেক সাংসদ প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার সমর্থকরা প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়ে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেলে কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জয়পুরহাট–বগুড়া মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁর অনুসারীরা। এ সময় প্রায় আধাঘণ্টা ধরে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই আব্দুল বারী এলাকায় সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পথসভা, উঠান বৈঠক, প্রচার–প্রচারণার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছেন। রোববার তিনি কালাই ডিগ্রি কলেজ মাঠে গাক চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত ফ্রি চক্ষু শিবির উদ্বোধন করেন এবং বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের লিফলেট বিতরণ করেন।
বিক্ষোভ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আব্দুল বারী অভিযোগ করেন, প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা নিজে মনোনয়ন না পেয়ে ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে মহাসড়কে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই এবং দলীয় হাইকমান্ড এ ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মনোনয়ন ঘোষণার আগে এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাই মাঠে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক এএইচএম ওবায়দুর রহমান চন্দন, তিনবারের সাবেক সাংসদ আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান, সাবেক সাংসদ প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্বাস আলী, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা লায়ন সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ, সিআইপি ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে। শেষ পর্যন্ত দল আব্দুল বারীর নাম ঘোষণা করলে অধিকাংশ নেতাই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তবে শুরু থেকেই অবস্থান নেন প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা। তাঁর সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মন্ডল বিক্ষোভের সঙ্গে দল বা উপজেলা কমিটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে পরিষ্কারভাবে জানান। তাঁর দাবি, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল এবং হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তাঁকেই সবাইকে মেনে নিতে হবে। স্থানীয় নেতা–কর্মীরা ইতোমধ্যেই দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করছেন। বিক্ষোভকে তিনি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার ব্যক্তিগত উদ্যোগ বলে উএ ল্লেখ করেন।
অন্যদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার সমর্থিত উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এফতাদুল হক বলেন, গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন মাঠে থেকে দলের জন্য কাজ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। অথচ যিনি গত ১৫ বছর এলাকায় ছিলেন না, তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাই তারা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এবং দলের হাইকমান্ড তাঁদের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল হবে বলেই আশা করছেন।