মহিউদ্দিন জুয়েল
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার পূর্ব বাংলা বাজার এলাকাটি সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর ব্যাপক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় পরিচালিত বিএডিসি’র কার্যকর পদক্ষেপ ও কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবার ফসলি জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
বিএডিসি'র কার্যকর সহায়তা:
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএডিসি পূর্ব বাংলা বাজারের কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ, সময়োপযোগী সার ও কীটনাশক সরবরাহ করেছে। বিশেষ করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বিতরণ এবং কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এর ফলে কৃষকরা সনাতনী পদ্ধতি ছেড়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদে মনোনিবেশ করতে সক্ষম হন। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি এবং পরামর্শ এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।
ফসল উৎপাদন ও বাম্পার ফলন:
বিএডিসি'র এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলস্বরূপ, চলতি মৌসুমে মাঠে মাঠে ধানের ফলন হয়েছে আশাতীত। সবুজ ধানক্ষেত সোনালী ধানে ভরে ওঠেছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব বাংলা বাজারের ফসলি জমিতে হেক্টর প্রতি ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উন্নত জাতের ধান ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে সার ও সেচ দেওয়ায় রোগবালাইও ছিল নিয়ন্ত্রণে। মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলার সময় কৃষকদের চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস ও পরিতৃপ্তি।
কৃষকদের প্রতিক্রিয়া ও স্বস্তির হাসি:
এলাকার প্রবীণ কৃষক আব্দুল করিম জানান, "গত কয়েক বছর ধরে ফলন ভালো হচ্ছিল না, ঋণের বোঝা বাড়ছিল। কিন্তু এই বছর বিএডিসি আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছে, তাতে আমরা অপ্রত্যাশিত ফলন পেয়েছি। খরচ মিটিয়েও এবার ভালো লাভ থাকবে।" তরুণ কৃষক রতন মিয়া বলেন, "আমাদের কাছে এখন উন্নত বীজ ও সারের পর্যাপ্ত জোগান আছে। আমরা আশাবাদী, সরকারের এই সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমরা শুধু নিজেদের চাহিদা মেটাবো না, দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখতে পারবো।" এই বাম্পার ফলন শুধু আর্থিক সচ্ছলতা নয়, বরং কৃষকদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবলও বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
দোয়ারা বাজার উপজেলার পূর্ব বাংলা বাজারে কৃষিক্ষেত্রে বিএডিসি'র এই সাফল্য নিঃসন্দেহে অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ধান উৎপাদনে এই ইতিবাচক পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, সরকারি সহায়তা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা কৃষকদের জীবনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধারা বজায় থাকলে বাংলাদেশ সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে কৃষি খাত বড় ভূমিকা রাখবে।
পূর্ব বাংলা বাজারে বিএডিসি-এর এই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।