প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 23, 2025 ইং
শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে বিতর্কের ঝড়

প্রশাসন “জামাতের কথায় চলবে”—মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা**
জামায়াতে ইসলামী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ কর্মীসভায় প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে আনার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন— “দেশের প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে-বসবে। আমাদের নির্দেশে গ্রেফতার হবে, আমাদের ইশারায় মামলা হবে।”
এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলছেন—দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে দলীয় প্রভাবে নেয়ার এমন প্রকাশ্য বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অবস্থান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ
সভায় শাহজাহান চৌধুরী দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন—
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা দলীয় প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেবেন,
থানার ওসিকে দলীয় কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত রাখতে হবে,
ইউএনওসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের “দলীয় যোগাযোগের আওতায়” আনতে হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী এবং নির্বাচনী পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
দলের ভেতরেই অস্বস্তি
বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন—শাহজাহানের বক্তব্য দলের নীতি বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। তবে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন—দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল নেতা এমন সংবেদনশীল মন্তব্য কীভাবে প্রকাশ্যে করতে পারলেন।
বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি দলের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে “নির্দেশ মানার” অবস্থানে দেখানোর চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। বিশ্লেষকদের ভাষায়— “প্রশাসনকে দলীয়করণের ইঙ্গিত রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।”
সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনা
বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে এমন মন্তব্য দায়িত্বশীলতার ঘাটতি নির্দেশ করে।
উপসংহার
শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা কতটা বজায় থাকবে—তা এখন সময়ই বলে দেবে।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।