মোঃ আবুল বাশার
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের নির্বাচনী অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা আমির শরীফ মু. আব্দুল জলিল। গতপরশু ২০ নভেম্বর ২০২৫ রোজ বৃহস্পতিবার রাত ৮.০০ ঘটিকায় মঠবাড়িয়ার পৌর শহরের শহীদ মিনারের সামনে ডিবিসি লাইভ-এর সরাসরি সম্প্রচার এবং পরবর্তী দিনব্যাপী এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়নের চিত্র, জনগণের অধিকার ও সুশাসন নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য তুলে ধরেন।
তিনি মঠবাড়িয়ার দীর্ঘদিনের অবহেলিত অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং জনসেবামূলক উদ্যোগের ঘাটতির বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,
“এলাকার মানুষ প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। যে উন্নয়নের দাবি বারবার তোলা হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি।”
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা জরুরি।
ডিবিসি লাইভ-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে শরীফ মু. আব্দুল জলিল বলেন,
“এই দেশ আল্লাহর দান। তাই মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আলেম সমাজসহ প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও জানান, জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নৈতিক ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনের লক্ষ্য তার।
পরবর্তীতে বৃহৎ জনসভায় হাজারো মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“আমরা জনগণের সেবা করতে এসেছি, ক্ষমতার জন্য নয়। নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ভোটারদের জন্য ভয়ভীতিমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন।
প্রার্থীর দাবি—স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত হলে জনগণের মতামতই ফলাফলে প্রতিফলিত হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার বিভিন্ন কর্মসূচি, গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং জনসমাবেশে উপস্থিত মানুষের ভিড় এলাকার অন্য প্রার্থীদেরও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে। ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা, প্রত্যাশা ও আগ্রহ দেখা গেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামী–র প্রচার-প্রচারণা গত সপ্তাহের তুলনায় আরও সক্রিয় ও গতিশীল হয়েছে, যা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মঠবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন উত্তেজনা বাড়ছে—জনগণের প্রত্যাশা, উন্নয়নের দাবি এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা মিলেমিশে এক জটিল কিন্তু প্রাণবন্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।