
মো:আসাদুর রহমান
বাগেরহাটে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা।
পর্যাপ্ত ডাক্তার না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
বর্তমানে যে কয়জন ডাক্তার আছেন তারা ও ঠিক সময় আসছেন না হাসপাতালে।
সকাল ১০টা থেকে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও দু একজন ছাড়া বাকিরা আসেন ১১টা থেকে ১২টার পর। অন্যদিকে দুপুর ২টা না বাজতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ফেলে রেখে সবাই ছুটে ব্যাক্তিগত চেম্বারের দিকে।
সরেজমিনে গিয়ে লক্ষ করা গেছে বাগেরহাটের ২০৫শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রুগীর সংখ্যা প্রয় এক হাজার। ভর্তি রুগীর সংখ্যা ও ধারন ক্ষমতার চেয়ে প্রয় দিগুন।
যেখানে ৫৮জন ডাক্তারের বিপরীতে ডাক্তার আছেন মাত্র ২৩জন। বিশেষ করে কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, ডেন্টাল ও চক্ষু বিশেষজ্ঞের কোনো ডাক্তার নেই দীর্ঘদিন থেকে।
সাধারন স্টাফ ৯১জনের বিপরীতে আছেন মাত্র ৩৭জন।জনবল সমস্যা সহ হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার কারনেই সাধারন রুগীরা বঞ্চিত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে।
হাসপাতালের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে রুগীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।
বাথরুম টয়লেট গুলো ও রয়েছে নাজুক অবস্থায়। দুর্গন্ধে হাটা যায় না টয়লেটের আশ পাশ দিয়ে।
চিকিৎসা নিতে আসা একাদিক রুগী অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত মেডিসিন থাকা সত্যেও শুধু মাত্র প্যারাসিটামল আর গ্যাসের ঔষধ ছাড়া কিছুই পাচ্ছে না তারা। তাই বাধ্য হয়ে বাহির থেকে কিনে আনতে হয় প্রয়োজনীয় ওষুধ।
রোগীদের জন্য হাসপাতাল থেকে যে খাবার সরবরাহ করা হয় তা খুব নিম্নমানের। অনেকের অভিযোগ হাসপাতালের খাবার খেতে না পেরে বাহির থেকে কিনে খাচ্ছেন খাবার।
আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা ও ভর্তি থাকা একধিক রুগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিক্ষা নিরীক্ষা করার ব্যাবস্থা থাকা সত্যেও রুগিদের বিশেষ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঠিকানা দিয়ে রিপোর্ট করে আনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ডাক্তরদের দেয়া নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করে অন্য কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করালে সে সমস্ত রিপোর্ট ছুড়ে ফেলে রোগীকে বাধ্য করে তাদের দেয়া ল্যাব থেকে পরিক্ষা করাতে। হাসপাতালে গিয়ে একাদিক রুগির সাথে কথা বলে এর সত্যতা ও পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলে বলেন যেখানের পরিক্ষার রিপোর্ট ভালো সেখানকার পরামর্শ দিচ্ছি। খোজ নিয়ে জানা যায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রুগীদের পরিক্ষার টাকা থেকে শতকরা ৪০% ডাক্তারদের পকেটে আসে।
যে সমস্ত ডায়গনস্টিক সেন্টার ডাক্তারদের এই বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা রুগিদের শুধু মাত্র সে সমস্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এ বিষয় বাগেরহাট ২৫০শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসিম কুমার সমাদ্দার বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডিউটি চলাকালীন কোন ডাক্তার বিশেষ কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানের পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ার নেই।
যদি কেউ দিয়ে থাকেন এটা তার দায়িত্বের অবহেলা এবং বেআইনি।
তিনি আরো বলেন, আমি সকল ডাক্তারদের সাথে বসে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিব।
এছাড়াও হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচে স্টাফদের মটর সাইকেল রেখে গ্যারেজের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন। এতে অসুস্থ ও সাধারন রুগীদের চলাচলে তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা।
কোন প্রকারের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ডাক্তার ও স্টাফদের ইচ্ছে চলছে বাগেরহাট জেলার একমাত্র চিকিৎসা কেন্দ্র ২৫০শয্যা হাসপাতালের সেবা।
সাধারন রুগীদের চাওয়া একটাই হাসপাতালে পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও বাথরুম টয়লেট গুলো ব্যাবহারের উপযুগি সহ হাসপাতাোলে যে সমস্ত টেষ্ট করা সম্ভব সে গুলো যেন তারা হাসপাতালে করতে পারে এবং ডাক্তার আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জিম্মি দশা থেকে সাধারন মানুষ পরিত্রান চায়।##