সঞ্জয় দেবনাথ
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার ফলস্বরূপ নতুন করে জলাতঙ্ক (Rabies) সংক্রমণ নিয়ে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জন রোগী জলাতঙ্ক-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মোছাঃ সারমিন ফারহানা জেরিন এই সংখ্যাবৃদ্ধিকে বিগত বছরগুলোর তুলনায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কুকুর নিধন নিষিদ্ধ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা নিবাস চন্দ্র পাল। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জনসচেতনতা এবং পোষা প্রাণীদের সুরক্ষায় জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে ইউএনও’র বরাত দিয়ে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা নিবাস চন্দ্র পাল জানান যে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারি করছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা জোরদার করতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শহরের কুকুরসহ আশপাশের এলাকার কুকুরগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কাজও চলমান রয়েছে।
কুলাউড়া পৌরসভা এলাকায় কুকুর আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে রাতে শহরের রাস্তাঘাটে বেওয়ারিশ কুকুরের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সকালে শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় প্রচুর কুকুর দেখা যাচ্ছে। এর ফলে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কামড়ে আক্রান্ত এক রোগী জানান,রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ দুই-তিনটা কুকুর আমার পেছন থেকে এসে কামড়ে দেয়। খুব ভয় পেয়ে হাসপাতালে আসি। ডাক্তাররা বলছেন সময়মতো ইনজেকশন না নিলে বড় ধরনের সমস্যা হতো।
আরেকজন অভিভাবক বলেন,আমার ছোট ছেলেকে রাস্তা থেকে দোকানে যেতে গিয়ে কুকুর কামড়ে দেয়। এখন আমরা খুব আতঙ্কে আছি। এলাকার কুকুরগুলো যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, আরও মানুষ আক্রান্ত হবে।
এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে, বেওয়ারিশ ও পোষা কুকুরের প্রতি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে জোরদার না করা হলে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে স্থানীয়রা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।