প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 18, 2025 ইং
১৮ বছর বাবার কোলে যাতায়াত করে অনার্স পরিক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ
মোঃ শামীম হোসেন সাগর
ধুনটের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নাইছ অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণবগুড়ার ধুনট উপজেলায় বাবার কোলে চড়ে ১৮ বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নাইছ খাতুন ওরফে হাসি এবার অনার্স চুড়ান্ত পর্বের পরিক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার ফলাফল ৩ দশমিক ০২ গ্রেড। এমন ফলাফলে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত নাইছ। এই কৃতিত্বে খুশি হয়েছেন তার মা-বাবা ও ভাইসহ স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুটো পা আছে, তবে সেগুলোয় শক্তি নাই। ডান হাতেও নেই শক্তি। সম্বল তার বাঁ হাত। সব সময় বাবার কোলে চড়েই ওকে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়েছে। এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন।
ধুনট উপজেলার বহালগাছা গ্রামে তার বাড়ি। বাবার নাম নজরুল ইসলাম ও মায়ের নাম আকতার জাহান। দরিদ্র এই দম্পতির ঘরেই ২০০১ সালে জন্ম নেয় নাইছ খাতুন ওরফে হাসি। নাইছ ৬ বছর বয়সে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ৫ম শ্রেণির লেখাপড়া শেষ করে ভর্তি হন বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
ওই বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে মানবিক শাখায় এসএসসি পরীক্ষায় ৩.৫৫ পয়েন্ট পেয়ে কৃতকার্য হন। এরপর ২০১৯ সালে বিশ্বহরিগাছা-বহালগাছা বহুমুখী মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ২.৭৫ পয়েন্ট পেয়ে পাশ করেছেন। এরপর উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স শ্রেণিতে ভর্তি হন। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নাইছ বাড়ি থেকে বাবার কোলে চড়েই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেছেন।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।