মো: মিজানুর রহমান
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুকে) একটি বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়— ধানের শীষের মিছিল শেষে বক্তব্য দেওয়ার আগে “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, মূল ভিডিওতে এ ধরনের কোনো স্লোগান ছিল না।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ১২ নভেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের আয়োজিত আওয়ামী লীগ সরকারের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক মিছিল শেষে।
মিছিল শেষে বক্তব্য দেন শামীম কায়সার লিংকন। তাঁর বক্তব্যের আগে দলের প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হলেও, পরে কেউ ভিডিওটি সম্পাদনা করে সেখানে “জয় বাংলা” স্লোগান জুড়ে ফেসবুকে প্রচার করে।
মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন—
“এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার। বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রকৃতপক্ষে বক্তব্যের আগে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ভিডিও সম্পাদনা করে মিথ্যা বার্তা ছড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন—
“গুপ্ত সংগঠন যারা একসময় হেলমেট পরে পতিত ফ্যাসিস্টদের দোসর ছিল, আজ তারা সুশীল সেজে হীনস্বার্থে এই অপপ্রচারে নেমেছে। তারা জানে, মাঠে লিংকনের জনপ্রিয়তা বেড়ে গেছে— তাই ফেসবুকের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এটা রাজনীতির এক কালো অধ্যায়।”
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ভিডিওটির অডিও ট্র্যাকে স্পষ্ট কাট ও সংযোজন রয়েছে, যা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
ফেসবুকের কয়েকটি পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে। যাচাই না করেই অনেক ব্যবহারকারী সেটি শেয়ার করায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
তবে কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মূল ভিডিও প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন।
একজন বিশ্লেষক বলেন—
“একটি ছোট ভিডিও ক্লিপ এখন বড় রাজনৈতিক অস্ত্র। এ ধরনের ডিজিটাল বিভ্রান্তি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।”
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, কারও ভাবমূর্তি নষ্টের উদ্দেশ্যে বিকৃত বা মিথ্যা ভিডিও প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রার্থী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ চাইলে এ ঘটনায় সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও মামলা করতে পারেন।
গাইবান্ধা-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, লিংকনের মনোনয়ন ঘোষণার পর আসনটি বিএনপির জন্য প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছে, যা প্রতিপক্ষের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
তাদের ধারণা— এই কারণেই ষড়যন্ত্রকারীরা ক্লিন ইমেজের এই প্রার্থীকে বিতর্কিত করার কৌশলে লিপ্ত হয়েছে।
এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন
“এটি শুধু একটি ভিডিও নয়; এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সংগঠিত প্রচেষ্টা। ডিজিটাল অপপ্রচার এখন রাজনীতির নতুন যুদ্ধক্ষেত্র।”
স্থানীয় সচেতন ভোটাররা বলছেন
“এখন রাজনীতি হচ্ছে ফেসবুকের দেয়ালে, মাঠে নয়। কিন্তু মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। তাই মিথ্যা প্রচার টিকবে না।”
তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, বিকৃত ভিডিওর উৎস শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ হয়।
গাইবান্ধা-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিকৃত ভিডিও প্রমাণ করেছে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন ডিজিটাল অপপ্রচারই নতুন যুদ্ধক্ষেত্র।
তবে সচেতন নাগরিকরা বিশ্বাস করেন
“জনগণ যদি সচেতন থাকে, মিথ্যা নয়— সত্যের জয় হবেই।”