প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 12, 2025 ইং
নিয়ামতপুরে সরকারি ঘর পেয়ে স্বাবলম্বী সোনাভান খাতুন

আবু সায়েম
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের দরিদ্র নারী সোনাভান খাতুন সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর পেয়ে এখন স্বাবলম্বী জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর ঘর বিক্রি করেছেন— এমন একটি গুজব ছড়ালে বিষয়টি যাচাই করতে দৈনিক জনতার খবরের প্রতিনিধি সরেজমিনে তদন্তে যান।
দৈনিক জনতার খবরের নিয়ামতপুর প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন যে, সোনাভান খাতুন ঘরটি বিক্রি করেননি। তিনি বর্তমানে তাঁর স্বামী, ছেলে ও ছেলের স্ত্রীসহ একত্রে সেই ঘরেই বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখন স্থিতিশীল ও সুখে আছেন।
সোনাভান খাতুন জানান,
> “আমি ঘর পাইছি, এখন ভালো আছি। এই ঘর বিক্রি করি নাই, বরং আল্লাহর রহমতে এখন নিজের ঘরে সুখে আছি। দু’টা গরু পালি, ছেলেরে একটা ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে দিতে পারছি।”
সরকারি ঘর পাওয়ার পর পরিবারটি ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভর হয়ে উঠেছে। ঘর পেয়ে শুধু নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে তাদের জীবনে। সোনাভান খাতুনের ছেলে বর্তমানে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যান গাড়ি চালিয়ে সংসারে আয় করছেন।
উল্লেখ্য, সোনাভান খাতুন প্রথমে নিজের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরে নিয়ামতপুরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব জয়া মারিয়া’র নিকট একটি ঘরের আবেদন করেন। ইউএনও মহোদয়া বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁর জন্য একটি ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।
বর্তমানে সোনাভান খাতুনের পরিবার সেই ঘরে বসবাস করছে এবং নিজ উদ্যোগে গবাদিপশু পালন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। নিয়ামতপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে,
> “সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো অসহায় মানুষকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়ে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে দেওয়া। সোনাভান খাতুন সেই সফলতার একটি বাস্তব উদাহরণ।”
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।