
পলাশ হাওলাদার
আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। ১৯৭০ সালের এই রাত-ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়ের রাত। উপকূলে আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, গোর্কি যা মুহূর্তেই মুছে দেয় অসংখ্য জনপদ, নিভিয়ে দেয় অগণিত প্রাণের প্রদীপ।
সরকারি হিসেব বলছে-বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলায়, বরগুনাসহ, প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ৪৮ হাজার মানুষ। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, সেই সংখ্যা ছিল লাখেরও বেশি। পুরো রাঙ্গাবালী-চরমোন্তাজ, সোনারচর, মৌডুবি, বড় বাইশদিয়া-পরিণত হয়েছিল জনশূন্য বিরানভূমিতে। ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু-কিছুই রক্ষা পায়নি সেই রাতে। সর্বত্র ছিল শুধু মৃত্যুর হাহাকার। খাল-বিল, নদী-নালা- ভরে গিয়েছিল লাশে। চারদিকে ছিল নিস্তব্ধতা আর কান্নার সুর।
প্রবীণরা বলেন-সেদিনের সেই স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে তাঁদের। কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ হারিয়েছেন বাবা-মা, কেউ পুরো পরিবার। অবর্ণনীয় সেই বেদনা আজও জীবন্ত উপকূলবাসীর মনে। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, তবু উপকূলের বুকের ক্ষত এখনো শুকায়নি।
প্রতি বছর এই দিনে তারা স্মরণ করে প্রিয়জনদের, প্রার্থনা করে যেন এমন প্রলয় আর না নামে বাংলার উপকূলে। স্থানীয়দের দাবি-ভয়াল ১২ নভেম্বরকে “উপকূল দিবস” ঘোষণা করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে সেই ত্যাগ, সেই বেদনার ইতিহাস। ভয়াল ১২ নভেম্বর শুধু এক তারিখ নয়-এটি উপকূলের মানুষের চোখের জল, অসংখ্য হারানো জীবনের স্মৃতি, আর বেঁচে থাকার এক অনন্ত প্রার্থনা।