
আব্দুর রহিম ইসলাম রনিকুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সৎ যুবক দেখিয়েছেন সততা ও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ভূরুঙ্গামারী জামতলা মোড়ের এটিএম বুথে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ড মোঃ মজনু মিয়া কুড়িয়ে পাওয়া পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
মজনু মিয়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এক সহজ-সরল কৃষক পরিবারের সন্তান মোঃ শাহজালালের ছেলে। এইচএসসি পাস করা মজনু বর্তমানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। ডিউটির সময় জামতলা মোড়ের পাশে ড্রেনের কাছে রাবার দিয়ে বাধা অবস্থায় একটি টাকা ভর্তি প্যাকেট ও কিছু কাগজপত্র চোখে পড়ে তার। তিনি তা সংগ্রহ করে চুপচাপ অপেক্ষা করতে থাকেন প্রকৃত মালিকের জন্য। রাত ৯টার দিকে এক বৃদ্ধকে উদ্বিগ্নভাবে কিছু খুঁজতে দেখে মজনু তার কাছে যান এবং জানতে পারেন যে ওই ব্যক্তি কাঠ ব্যবসার টাকা — ৫০,০০০ টাকা — হারিয়েছেন।
বৃদ্ধের নাম সাইফুর রহমান, বাড়ি থানাঘাট এলাকায়। উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর মজনু মিয়া সেই টাকা ও কাগজপত্র তার হাতে তুলে দেন। টাকা ফেরত পেয়ে বৃদ্ধ ব্যক্তি আবেগাপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মজনু বলেন, “আমি যদি চুপ না থেকে অন্য কাউকে বলতাম, তবে প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া কঠিন হতো। আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই টাকাটা ফেরত দিয়েছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ আমাকে সৎ পথে রাখেন।”
স্থানীয়রা বলেন, এমন সততা আজকের যুগে খুবই বিরল। মজনুর কাজ ভূরুঙ্গামারীর তরুণ সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”
সততা ও নৈতিকতার এই অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প এখন ভূরুঙ্গামারীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।