নওগাঁ জেলার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা নিয়ামতপুর—যা বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র ও “বরেন্দ্র কন্যা” নামে খ্যাত। কিন্তু এই উপজেলার মানুষ আজও একটি উপযুক্ত কাঁচা বাজারের জন্য ভোগান্তিতে রয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়ে থানার পশ্চিম পাশের প্রধান সড়কের উপরেই বসছে কাঁচা বাজার, যা পরিণত হয়েছে জনদুর্ভোগে।
প্রতিদিন সকাল থেকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের উত্তর পাশের মূল গেট থেকে প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত রাস্তার উপর জায়গা জুড়ে বসে এই কাঁচা বাজার। সপ্তাহে দুই দিন—সোমবার ও বৃহস্পতিবার—এখানে ভিড় জমে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার। শাকসবজি, ফলমূল, মসলা—সবকিছুরই জমজমাট কেনাবেচা চলে ব্যস্ত সড়কের উপরেই।
তবে এই জমজমাট বাজার এখন স্থানীয়দের জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, পথচারীরা পড়েন বিপাকে, এমনকি জরুরি যানবাহন চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। বাজার চলাকালে এলাকা জুড়ে দেখা যায় জটলা, কাদা ও আবর্জনার স্তূপ—যা পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।
কাঁচা বাজারে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা একটি নির্দিষ্ট ও উন্মুক্ত স্থানের দাবি জানিয়ে আসছেন।
স্থানীয় সবজি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন,
> “আমরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় বসি। বাজারের জন্য আলাদা কোনো জায়গা নেই। কিন্তু এখানে বসলে পুলিশ ও যানবাহন নিয়ে সমস্যা হয়, আমরাও অস্বস্তিতে থাকি।”
ক্রেতা গৃহিণী শাহানারা খাতুন জানান,
> “এই বাজারে কেনাকাটা করতে এলেই কাদা ও যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বৃষ্টি হলে তো আরও দুর্বিষহ অবস্থা।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
> “বিষয়টি আমরা জানি। বাজার স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। অচিরেই এর সমাধান হবে বলে আশা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ী সমাজের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব নিয়ামতপুরে একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত কাঁচা বাজার নির্মাণ করা হোক—যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য তৈরি হয় আরামদায়ক পরিবেশ।