
সারুয়ার
ঘটনা ধামাচাপা দিতে ১৫,লাখ টাকা দাবি বিএনপি নেতার। ধর্মপাশা উপজেলার রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কাউছার মিয়া কর্তৃক তার বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন মাহতাব সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। গত সোমবার বিকেলে একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল মিয়া তার ফেসবুকে কাউছারের বাবা ও স্থানীয় জুবায়ের নামে এক ব্যক্তির এ সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস করে এমন অভিযোগ তুলেন। ওই রেকর্ডে জুবায়েরের জিজ্ঞাসাবাদে কাউছারের বাবা ১৫ লাখ টাকা চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
শিক্ষক কাউছার বিদ্যালয়ে রাত্রীযাপনসহ সকালে বিদ্যালয়েই প্রাইভেট পড়ান। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাড়ি বিদ্যালয় থেকে অনেক দূরে। তাই বিদ্যালয়ের পাশর্^বর্তী এক আত্মীয়র বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। প্রতিদিন সকালে সে তার সহপাঠীদের সাথে কাউছারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। কিন্তু ২৬ অক্টোবর প্রাইভেট পড়া শেষে ছাত্রীটি ভুলে বই ফেলে আসে। বিকেলে সেই বই আনতে গেলে কাউছার সুযোগ পেয়ে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে। বিষয়টি ছাত্রীর ওই আত্মীয় (যে বাড়িতে থাকে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানতে পারেন এবং ছাত্রীকে জিজ্ঞাস করলে তা স্বীকার করে। পরে ২৯ অক্টোবর দুপুরে সালাউদ্দিন মাহতাবসহ স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে গিয়ে এ ব্যাপারে কাউছারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় কাউছার অপরাধের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমনকি স্বীকারোক্তির ভিডিও সংরক্ষিত রেখেছেন তারা। এদিকে ওইদিন (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থানীয় রাজাপুর বাজারে কাউছারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে তার (কাউছার) শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে একটি পক্ষ। পরে ওই রাতেই ছাত্রীর মা বাদি হয়ে কাউছারের বিরুদ্ধে ধর্মপাশা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদর থেকে কাউছারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের দিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ইউপি সদস্য রবিউল মিয়া তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, অভিযোগ প্রকাশ পেলে উত্তেজিত জনতা কাউছারকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে সালাহউদ্দিন সেখানে গিয়ে ৩১ অক্টোবর বিচার করবেন বলে আশ^াস দেন এলাকাবাসীকে। আর এই ফাঁকে কাউছারকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন এবং শিক্ষকের বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহতাব বলেন, এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া নয় বরং; আমি বিষয়টিকে প্রশাসনিকভাবে নেওয়ার পরামর্শ দেই। আর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় একটি পক্ষ এ ঘটনাকে ধর্ষণ বলে অপপ্রচার চালিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রীটির সম্মানহানী করেছে। ওই শিক্ষকের বাবার কাছে আমি কোনো টাকা চাই নি বা তিনিও (শিক্ষকের বাবা) আমাকে টাকা অফার করেন নি। এ ব্যাপারে শিক্ষকের বাবার সাথে যে কেউ কথা বলতে পারেন। রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি পক্ষ আমার নামে মিথ্যাচার করছে।
শিক্ষকের বাবা বলেন, রেকর্ড শুনেছি, ওই কণ্ঠ আমার নয়। আমার কাছে সালাউদ্দিন বা অন্য কেউ কোনো টাকা চায় নি। তবে সময় হলে আমি কথা বলবো।