
সুমন আহমদ খান
উন্নয়ন বঞ্চনা ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছেন সিলেটের মানুষ। সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আহ্বানে রোববার সকালে সিলেট নগরীর সিটি পয়েন্টে শুরু হয় গণঅবস্থান কর্মসূচি। পরে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ৩টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল বলে জানা গেছে।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা সড়কেই দুপুরের নামাজ আদায় করেন। আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের কিছু প্রভাবশালী আমলা চরম সিলেটবিদ্বেষী। তারা সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ইচ্ছে করে আটকে দেন। আমরা উন্নয়নের ন্যায্য দাবিই করছি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের অন্যান্য বিভাগে যে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, সিলেট সেখানে বঞ্চিত। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এই গণঅবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
এর আগে শনিবার রাতে নগরীর হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ গেইট থেকে ‘সিলেট আন্দোলন’-এর ব্যানারে মশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি দরগাহ এলাকা থেকে শুরু হয়ে চৌহাট্টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। এটা সিলেটের উন্নয়নের আন্দোলন। প্রয়োজনে আমরা সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবনের সামনেও অবস্থান করব।”
গত বৃহস্পতিবার রাতে কুমারপাড়ায় নিজ বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি ‘সিলেট আন্দোলন’ নামে সর্বজনীন প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেন। এতে রাজনীতি, সংস্কৃতি, ব্যবসা, শিক্ষা, ধর্মীয় ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যুক্ত হয়েছেন।
আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেটবাসীর এই গণঅবস্থান কর্মসূচি নগরজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন সিলেটের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।