
শেখ তাইজুল ইসলাম
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী জাটকা ইলিশ আহরণে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। আজ, শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা আট মাস। এই সময়ের মধ্যে সাগর ও নদীতে কোনো জেলে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ (জাটকা) আহরণ করতে পারবেন না।
ইলিশের বংশবৃদ্ধি: ইলিশ একটি জাতীয় সম্পদ। এর উৎপাদন বৃদ্ধিতে সদ্য ডিম থেকে উৎপন্ন ছোট ইলিশ বা জাটকাকে নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতেই এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আইন লঙ্ঘন দণ্ডনীয় অপরাধ: মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জাটকা আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুত করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
শাস্তির বিধান: আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে এক বছর থেকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তর সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, র্যাব এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহযোগিতায় এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে। মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
নিষেধাজ্ঞার এই দীর্ঘ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির আওতায় চাল প্রদান করা হবে, যাতে তারা মাছ ধরা থেকে বিরত থেকে পরিবার চালাতে পারে। প্রথম দফায় ৮০ কেজি এবং দ্বিতীয় দফায় ৮০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল সহায়তার বিধান রয়েছে।
ইলিশের সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জাটকা নিরাপদে বড় হতে পারলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।