প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 29, 2025 ইং
ঈশ্বরগঞ্জে ৪ কোটি টাকার প্রকল্পের ভাগাভাগি নিয়ে ইউএনও–পিআইওর দ্বন্দ্ব

জুনাঈদ আল হাবিব
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি টাকার টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ বণ্টন ও ভাগাভাগি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিমের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার পর পুরো উপজেলা প্রশাসনে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। অভিযোগ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, পিআইও রেজাউল করিম প্রতিটি প্রকল্পের টাকার ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন। এছাড়া সরকারি নিয়মের বাইরে ১৫ শতাংশ ভ্যাট-আয়কর এবং “মাস্টাররোল ফাইলিং” বাবদ প্রতি প্রকল্পে আরও ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
তারা বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন এবং পিআইওর অবসারণ দাবি করেছেন।পিআইওর বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও রেজাউল করিম বলেন,“গত শুক্রবার ইউএনও ও তার সহকারী আমার অফিসে এসে ৪ কোটি টাকার প্রকল্পের তালিকা তৈরি করে স্বাক্ষর করতে বলেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া আমি স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় ইউএনও আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়েছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, ইউএনও নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের প্রকল্পে যুক্ত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন।
ইউএনওর বক্তব্য
অন্যদিকে ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন,
“প্রকল্পের ৮০ শতাংশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাকি ২০ শতাংশ উপজেলা পরিষদের প্রকল্প। পিআইও প্রকল্পের তালিকা প্রস্তুত করে স্বাক্ষরের জন্য দিলে তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।”
তিনি বলেন, “কোনো অনিয়ম ছাড়াই স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাচ্ছি, কিন্তু পিআইও অফিস থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।”
বর্তমান অবস্থা
এই দ্বন্দ্বের কারণে উপজেলা প্রশাসনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়ছে, ফলে সাধারণ জনগণের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।