প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 28, 2025 ইং
হার্বস্টার মেশিন বিতরণে সরকারি ভর্তুকির কোটি টাকা লোপাট

রায়হান হোসেন
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন এর চরলক্ষ্মী, চরকাচিয়া, কানিবগা ব্লকের কর্তব্যরত কৃষি উপসহকারী (এসএএও)আখতার হোসেন তথ্য গোপন করে, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মেনেজ করে দু'টি হার্বস্টার মেশিন ও তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল কৃষক সেবা সার্ভিস সেন্টারে সরকারি ভর্তুকির প্রায় অর্ধ-কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। রায়পুর উপজেলা থেকে ২০ টি হার্ভস্টার মেশিন বিতরণে কোটি টাকারও বেশি উপ-সহকারীরা লোপা করেছে বলে জানা যায়। এছাড়াও তথ্য সংগ্রহ গিয়ে কাজে ফাঁকি দেওয়া সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, " আক্তার হোসেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আওয়ামিলীগ পরিবার হওয়ায় এবং লক্ষ্মীপুরে ছাত্র হত্যার অন্যতম আসামি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার আলতাফ হোসেন এর ছত্রছায়ায় থাকায় সরকারি চাকুরী করে নানাভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি করলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার বুকের পাঠা হয়নি কারো। তার কর্মস্থল ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন হলেও তিনি সার্বক্ষণিক থাকেন ২নং চরবংশীতে। "
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক আরও অভিযোগ করে বলেন, " স্বজনপ্রীতি করে তার ভাগিনা ইব্রাহীম গাজী, পিতা : আঃ খালেক গাজী, কম্বাইন হারভেস্টার, ইঞ্জিন নং 15424A, চেসিস নং C60B500449, এবং জহিরুল ইসলাম, পিতা : আব্দুল খালেক, কম্বাইন হারভেস্টার ইঞ্জিন নং 16962 A, চেসিস নং C60B500982 নামে দুটি হারভেস্টার মেশিন এনে সেই মেশিন অন্য এরিয়াতে নিয়ে নিজের তত্ত্বাবধানে চালান, দুটো মেশিনে সরকার প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ভর্তুকি দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকদের সুবিধার্থে। অথচ মেশিন কোথায় রাখে তাও স্থানীয় কৃষকরা কেউ জানেন না। এছাড়াও প্রণোদনার যত বরাদ্দ কৃষকদের জন্য আসে তার অধিকাংশই স্বজনদের নামে-বেনামে লুটেন তিনি।
৫ আগষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে বর্তমান সরকার কৃষকদের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কৃষক সেবা ডিজিটাল সেন্টারে সরকার ৫ লক্ষ টাকা প্রণোদনা দিয়েছেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অথচ সেই ডিজিটাল সেন্টার আক্তার হোসেন তার নিজের ছোট ভাইয়ের নামে এনে সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে সেই দোকানেই সার্বক্ষণিক থাকেন আক্তার হোসেন। আওয়ামীলীগ দলীয় পরিবার হওয়ায় দল ক্ষমতায় থাকতেও সরকারি চাকুরী করে অনিয়ম দুর্নীতি করেছে এখনো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে মেনেজ করে অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তার এই ডিজিটাল সেন্টারের বিষয়ে কৃষক কেউ জানেন না এবং তার স্বজনরা ছাড়া কেউ সামান্যতম সুবিধাও পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । "
২নং উত্তর চরবংশীর কর্তব্যরত কৃষি উপসহকারী (এসএএও) মোঃ মনির হোসেন বলেন, " আমি ২নং এর দায়িত্বে আছি ঠিকই কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্যার আমার কাছে কোন কিছু না জানিয়ে আখতার হোসেন এর সঙ্গে পরামর্শ করে তার ছোট ভাই আবুল হোসেনকে তৃণমূল পর্যায়ে কৃষক সেবা ডিজিটাল সেন্টার দিয়েছেন। আমি কিছু বলতে পারবো না, এটা নিয়ে আমি স্যারকে অনেকবার বলেছিলাম কিন্তু স্যার আমার কোন কথাই শুনেনি। " আখতার যেভাবে বলেছেন স্যার সেভাবে করেছেন। কেন করছেন এবিষয়ে স্যার বলতে পারবেন।"
তথ্য সংগ্রহ গিয়ে আরও পাওয়া যায়, সরকার ভর্তুকির অধিকাংশ হারভেস্টার মেশিনই উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সরকার দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করাসহ ব্যাপক অনিয়ম করে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ভর্তুকির প্রায় কোটি টাকার লোপাট হয়েছে বলে জানা যায়। উপসহকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলায় ঠিকঠাক তদারকির অভাবে অনেক মেশিন অচল হয়ে গেছে। যেগুলো সচল রয়েছে তার অধিকাংশই শর্ত ভঙ্গ করে বিক্রি করে দিয়েছেন কৃষক নামে আওয়ামীলীগের ব্যানারে থাকা সুবিধা ভোগীরা।"
এবিষয়ে রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাজেদুল ইসলাম প্রথমে কোন ধরনের তথ্য দিতে চাননি, তথ্য প্রাপ্তির আবেদন পত্রে আবেদন করেও সঠিক কোন তথ্য না দিয়ে তিনি বলেন, এসব তথ্য দিয়ে কী করবেন? আপনাদের কোন সুবিধা প্রয়োজন হলে সেটা বলবেন, পরবর্তী কোন হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ আসলে আপনারা চাইলে আপনাদের দিবো এগুলো নিয়ে আর ঘাটাঘাটি কইরেন না, পাস্ট-ইজ পাস্ট বাদ দিননা এসব, আমি সবসময় বিজি থাকি, এসব নিয়ে আমাকে আর জ্বালাইয়েননা। এছাড়াও তিনি বলেন, আপনারা নিউজ করেন, প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়ায় শাস্তি হিসেবে আমি অভিযুক্তদেরকে ইউনিয়ন বদল করে বদলি করেছি। এতে কী শাস্তি হয়নি?অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।