
মোঃশাহআলম মোল্লা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের বিএনপি দলীয় ৪ মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ঢাকায় ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ (সোমবার ২৭অক্টোবর) বিকেল ৪ ঘটিকায় রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকের পরই চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেওয়ার কাজ শুরু হবে। চলতি মাসের শেষ অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রার্থীরা ওই সংকেত পেতে পারেন।
বরিশাল-১ আসনে ডাক পেলেন যারা:
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) নির্বাচনি এলাকার যে ৪ জনকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে তারা হলেন:
১. আকন কুদ্দুসুর রহমান (দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক)
২. জহির উদ্দিন স্বপন (বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য)
৩. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান (বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)
৪. অ্যাড. কামরুল ইসলাম সজল (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য)
তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি:
জানা গেছে, এবার মনোনয়নের বিষয়টি সরাসরি মনিটরিং করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিন মাধ্যমে নেওয়া মাঠপর্যায়ের রিপোর্টের সঙ্গে সাংগঠনিক টিমের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর ফলে, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, জনপ্রিয়তায় প্রথম সারিতে থাকা এবং ২০১৮-র নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় থাকা নেতারাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠকে ডাক পেয়েছেন।
নেতাদের বক্তব্য:
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এই প্রক্রিয়াটিকে সাংগঠনিক অংশ হিসেবে দেখছেন।
দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, এই বৈঠক একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। সংসদ-সদস্য নির্বাচন করার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন নেতা প্রতিটি আসনেই রয়েছেন। তবে দলের একটি নীতিমালা রয়েছে। বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। তিনি আরও বলেন, "মনোনয়ন চাওয়া কিংবা এমপি হওয়া বড় কথা নয়, আমাদের সবার একটাই লক্ষ্য, ধানের শীষের বিজয়।"
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, "দল যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমি ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে জনগনের বিপুল ভোটের মধ্যে দিয়ে বিজয়ী করবো ইনশাআল্লাহ।"
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, "আমি কোনো ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি করিনা, আমার দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে জনগনের বিপুল ভোটের মধ্যে দিয়ে সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়ন মুলক কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।"
অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, "বিগত দিনগুলোতে যেভাবে দলের সুখে- দুঃখে রাজপথে থেকে দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক সাংগঠনিক কাজ করে আসছি,ঠিক তেমনিভাবে দল যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমি সেই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে আগামী দিনগুলোতে দলের একজন কর্মী হয়ে জনসেবা মূলক কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।"
বরিশাল-৩ আসনের জটিলতা:
অন্যদিকে, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে কাউকে বৈঠকে ডাকা হয়নি। মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা এবং স্থানীয় এক নেতার অনড় অবস্থানের কারণে সেখানকার প্রার্থীরা বাদ পড়েছেন। এই বিষয়টি বৈঠকের বাইরে সরাসরি নিষ্পত্তি করবে দলের হাইকমান্ড।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত:
বরিশালের ২১টি নির্বাচনি এলাকায় বিএনপির মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেলেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার পর্ব চলে, যদিও সেই সাক্ষাৎকারে সবাই ডাক পাননি।