
পলাশ হাওলাদার
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বাংলার খাস খাজনা প্রদানকৃত জমি জবরদখলের পাঁয়তারা ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় ভূমিহীন সদস্যরা।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে চর বাংলার ভূমিহীন কৃষক সমবায় সমিতির সদস্য ও স্থানীয় ভূমিহীনদের আয়োজনে গলাচিপা সাংবাদিক কর্যালয়ে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সদস্য মো. বশির হাওলাদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মো. বশির হাওলাদার, আনোয়ার হাওলাদার, মাওলানা আব্দুর রব, মো. জয়নাল সরদার, মো. রুবেল হাওলাদার।
বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী চর বাংলার কৃষি খাস জমি স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বণ্টনের নিয়ম থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কথিত সভাপতি সেরাজ খান এবং তার সহযোগী জালাল তালুকদার, শাহাবুদ্দিন তালুকদার, মজিবর হাওলাদার, ফারুক মীর ও আশ্রাব মোল্লাসহ একটি চক্র সরকার নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে তাদের খাস খাজনা প্রদানকৃত ভূমির প্রত্যয়নপত্র বাতিল ও জমি জবরদখলের চেষ্টা করেন।
মো. বশির হাওলাদার বলেন,, ১৪৩২-১৪৩৩ বাংলা অর্থবছরে গলাচিপা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে ২৩০ একর কৃষি খাস জমির একশানা খাজনা প্রদান করে তারা চাষাবাদ চালিয়ে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই দালালচক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে বহিরাগতদের নামে নতুন ডিসিআর ইস্যুর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী সরকারের কাছে খাজনা প্রদান করেছি এবং আদালতের নির্দেশনাও আমাদের পক্ষে রয়েছে। তবুও একটি প্রভাবশালী মহল আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করতে চাইছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।”
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এই বিষয়ে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে একটি দেওয়ানি আবেদন (নং-৩৮২৮/২০২৫) দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় গত ৭ মে ২০২৫ তারিখে আদালত আবেদনকারীদের পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন স্থিতাবস্থা (এস্টে অর্ডার) প্রদান করেছেন।
এ সময় সমিতির সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বৈধভাবে প্রাপ্ত খাস জমির ভোগদখল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তব্য আরো বলেন, “ সেরাজ খান এর তার কুচক্র মহোল চর বিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মতিন মিয়ার নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এই ঘটনার সঙ্গে কোন ভাবেই জড়িত নন।”