প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 30, 2025 ইং
অসহায় মহিলার আর্তনাদ, মহিলা মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রায়হান হোসেন ।।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও বামনী ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার নাছিমা আক্তারের বিরুদ্ধে মুজিববর্ষের উপহার ঘর বিক্রির টাকা আত্মসাৎয়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার বামনী বাংলাবাজার পালবাড়ি আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩৮ নম্বর সরকারি ঘরটি দু’দফায় বিক্রি করে নাছিমা মেম্বার প্রায় ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় ভুক্তভোগী কিরন কেঁদে কেঁদে গণমাধ্যমকে বলেন—
“মানুষের বাড়ি-বাড়ি কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে বছর দেড়েক আগে কুলসুমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ঘরটি কিনি। পরে নাছিমা মেম্বার এসে বলেন, এটা তার কোঠার ঘর। থাকতে হলে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। বাধ্য হয়ে লোকজনের বাসায় কাজ করে সেই টাকা দিই। এখন ঘর থেকে উচ্ছেদের ভয় দেখানো হচ্ছে। স্বামী নেই, কেউ নেই—আমি কোথায় যাবো?”
বিক্রেতা কুলসুমা আক্তারও অভিযোগ করেন, “ঘর পেতে হলে নাছিমা মেম্বার আমাকে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। অনুরোধের পর ৩০ হাজার টাকায় ঘর পাই। পরে কিরনের কাছে বিক্রি করি। কিন্তু মেম্বার তার কাছ থেকেও ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এক ঘর থেকে দুইজনের কাছ থেকে মোট ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন।”
শুধু ওই একটি ঘর নয়—আশ্রয়নের আরও বেশ কিছু ঘর (২২ ও ৯৩ নম্বরসহ) বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে যাদের ঘরের দরকার নেই, তাদের ঘর দিয়েছেন। পরে সেগুলো মোটা অংকের টাকায় বিক্রি হয়ে গেছে। অথচ প্রকৃত অসহায় মানুষ ঘর পাচ্ছে না।
জাহানারা বেগম নামের এক বৃদ্ধা বলেন,
“আমার থাকার জায়গা নেই। অন্যের নামে পাওয়া একটি ঘরে আছি। ঘর মালিক এখন বিক্রি করতে চাইছে, আমাকে বের করে দেবে। অথচ আমি এখনও একটি সরকারি ঘর পাইনি।”
এছাড়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ভূমি উন্নয়ন কর বছরে ১০ টাকা হলেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুই বছরের জন্য ২০ টাকার রসিদের বদলে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
বামনী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার সুমি আক্তার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে আউটসোর্সিং কর্মচারী কাওছার হয়তো অতিরিক্ত টাকা নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত মেম্বার নাছিমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি, বাড়িতেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান খাঁন বলেন,“রায়পুরের বিভিন্ন আশ্রয়ন কেন্দ্রে অসংখ্য ঘর বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। বিক্রি হওয়া ঘরগুলো বাতিলের জন্য ইতিমধ্যেই ডিসি অফিসে জানিয়েছি। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।