
রায়হান হোসেন।।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক— তিনজনই হত্যা মামলার আসামি। খোদ দলীয় কর্মী হত্যার অভিযোগে করা দুটি মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাদের শীর্ষ পদে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৬ আগস্ট গঠিত এ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে মো. ফারুক কবিরাজকে, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বরকে।
এ বছরের ৭ এপ্রিল উত্তর চরবংশী এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাইজুদ্দিন দেওয়ান নামে এক কর্মী নিহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক কর্মী জসিম উদ্দিন ব্যাপারী। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার দুটি আলাদা হত্যা মামলা করেন।
প্রথম মামলার প্রধান আসামি ফারুক কবিরাজ— যিনি বর্তমানে সভাপতি। আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বরও ওই মামলার ৯ নম্বর আসামি। অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় ৯ নম্বর আসামি ইমাম হোসেন গাজী, যিনি হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক।
দলীয় সূত্র জানায়, তফসিল অনুযায়ী কমিটি নির্বাচনের কথা থাকলেও ভোট গ্রহণ হয়নি। শেষ মুহূর্তে সমঝোতার মাধ্যমে তিনজনকে ঘোষণা দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ছালেহ আহাম্মদ।
তিনি বলেন “ভোটের প্রস্তুতি থাকলেও উপরের নির্দেশে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হয়েছি। খুনের মামলার আসামিদের শীর্ষ পদে আনা দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।”
তবে নতুন কমিটির সভাপতি ফারুক কবিরাজ বলেন“আমি খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মামলায় আসামি করা হয়েছে।”
একই দাবি করেছেন সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ কবির মাতব্বর। তাদের ভাষ্য “ঘটনার সঙ্গে আমরা জড়িত নই, প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করে নাম দিয়েছে।”
রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন
“বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলো এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হলে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। খুনের মামলা স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার সুযোগ নেই।”