
চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতের নির্বাচনী কর্মশালা ও সমাবেশ: সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতির ওপর জোর
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও সিটি কর্পোরেশন এলাকা) আসনে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কর্মশালা ও সমাবেশের আয়োজন করে। ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কর্মীদেরকে সুষ্ঠু নির্বাচনের কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেন।
কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জনাব মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি তার বক্তব্যে কালো টাকা, ফ্যাসিবাদ এবং নমিনেশন বাণিজ্যের মতো সমস্যার সমাধান হিসেবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিকে একটি বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ, জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। জনাব শাহজাহান কর্মীদেরকে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে কর্মীদেরকে নির্বাচনী বিজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ঐক্য ও দৃঢ়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রতিটি কর্মীকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এবং দলের আদর্শ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
এছাড়াও, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া তার বক্তব্যে নির্বাচন পরিচালনার সাংগঠনিক কাঠামো এবং কর্মীদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রতিটি কর্মীর ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং কীভাবে একটি সুশৃঙ্খল দলীয় কাঠামোর মাধ্যমে নির্বাচনী লক্ষ্য অর্জন করা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত আমির জনাব নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে নির্বাচনে ত্যাগ ও কোরবানির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'নির্বাচন শুধু ভোটের লড়াই নয়, এটি ত্যাগের এক বিশাল ক্ষেত্র।এই নির্বাচনে আমাদের সর্বস্ব ত্যাগ করতে হবে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য।'
কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভোটার ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্র পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণ। এই পর্বে সাবেক কাউন্সিলর ও সংসদ সদস্য প্রার্থী (চট্টগ্রাম-১০) জনাব মোহাম্মদ জসিম ভোটার ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি ব্যালট পেপার, ভোট গণনা এবং কেন্দ্র থেকে সঠিক ফলাফল সংগ্রহের পদ্ধতি শেখান। তার বক্তব্যে নির্বাচনকালীন সময়ে সম্ভাব্য অনিয়ম ও জালিয়াতি প্রতিরোধের কৌশল এবং কর্মীদের করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সহকারী নির্বাচন পরিচালক জনাব জসিম উদ্দিন আজাদ, মাওলানা মহিউদ্দিন এবং উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান তাদের বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পদ্ধতি এবং দলের আদর্শ জনগণের কাছে তুলে ধরার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। এরপর নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক ফজলুল করিম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি কর্মশালার গুরুত্ব এবং আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলের প্রস্তুতির ওপর আলোকপাত করেন।
সবশেষে, অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ফজলুল করিম সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি উপস্থিত সকল নেতা ও কর্মীকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতে দলের পক্ষ থেকে আরও শক্তিশালী কর্মসূচির ঘোষণা দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সচিব জনাব মোহাম্মদ তাহের।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কুতুব উদ্দিন শিবলী, সহকারী সেক্রেটারি জনাব আশরাফুল রহমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মিছবাহুল আলম রাসেল এবং যুব বিভাগ উপজেলা সভাপতি জনাব শামসুল হুদা।
এই কর্মশালাটি জামায়াতে ইসলামীর আসন্ন নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দলটি তাদের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদেরকে ভোটের কৌশল, কেন্দ্র পরিচালনা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যা তাদের সুসংগঠিত এবং শক্তিশালী নির্বাচনী প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।