
মোহাম্মদ আলী মাস্টার।।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি লালনের সরাইল উপজেলার একমাত্র সরকারি গ্রন্থাগারটি এখন আলোর মুখ না দেখে প্রশাসনের খেয়ালিপনায় গ্রন্থাগারটিতে নেই কোন শিক্ষা ও মেধাবিকাশের পরিবেশ। প্রায় একযুগ ধরে নেই প্রতিষ্ঠানটিতে সুশীল সমাজের বিচরণ, নেই শিক্ষার কোন পরিবেশ।
১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটিতে ২০/২২ বছর যাবত উপজেলা সদর এবং অন্যান্য এলাকার সংস্কৃতি সেবকদের আগমন ঘটলেও ১০/১২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির সাথে নেই সাহিত্য সেবীদের সম্পৃক্ততা। উপজেলা পরিষদের নখদর্পনে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান থাকলেও পরিচালনা কমিটি না থাকায় এবং কোন কোন সময় মনগড়া কমিটি গঠন করায় আজ এর পরিনতি বড়ই করুন।
এ ব্যাপারে সুশীল সমাজের তারা আক্ষেপ করেই বলেন, প্রতিষ্ঠার পর আনুমানিক ২০/২২ বছর এই গ্রন্থাগারটিতে নিয়মিত ছোটখাটো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠের আসর, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা সভা, ইতিহাস চর্চা,নজরুল -রবীন্দ্র জয়ন্তী, সাহিত্য আড্ডা,নিয়মিত বই পড়া,পত্রিকা পড়াসহ সাহিত্য চর্চার অন্যতম স্থান ছিল এই গ্রন্থাগারটি,এটা ছিল উপজেলার সাহিত্য সংস্কৃতি ব্যক্তিদের মিলনস্থল। জানা গেছে, ২০১২ সালে তখনকার নির্বাহী অফিসার আনিসুজ্জামান খান একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে কিছু নতুন বই গ্রন্থাগারটিতে প্রদান করেন এবং ভবনটির সংস্কারও করেন।কমিটির মেয়াদ ০২ বছর শেষ হওয়ার পর আর কোন কমিটি গঠন করা হয়নি, এতে দেখা দেয়,প্রতিষ্ঠানটিতে অচল অবস্থা, ব্যহত হয় গ্রন্থাগারের উদ্দেশ্য। দিন দিন গ্রন্থাগারের বইগুলো পোকায় দখল করে নিচ্ছে। আসবাবপত্রে ধরেছে গুণ।ইদুর, চিকা আর মাকড়সা দখল করেছে গ্রন্থাগারটি।
গ্রন্থাগারের বাহিরের পরিবেশ দেখে বুঝা যায় যে, যেন দীর্ঘদিন ধরে এর সাথে নেই কোন সংস্কৃতি ও সাহিত্যমনা মানুষের সম্পর্ক। গ্রন্থাগারটি নিয়ে সাহিত্য ও সমাজসেবী বাক্তিদের আলাপ করে জানা যায় আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য গ্রন্থাগারের বিকল্প নেই।বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মোবাইলে আসক্ততা থেকে ফিরিয়ে আনতে এই সরকারি গ্রন্থাগারটি যথাসম্ভব চালু করা প্রয়োজন।
অনেকে উপজেলা প্রশাসনকে দায়ী করে বলেন, উপজেলা প্রশাসন ইচ্ছে করলে এই প্রতিষ্ঠানটি আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পারেন, কারণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বয়ং এই সরকারি গ্রন্থাগারটির সভাপতি। তিনি একজন ডাইনামিক নির্বাহী অফিসার হিসাবে এর সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা তারই এখতিয়ার ,নতুন কমিটি গঠন করা তিনির দায়িত্বেই পরে বলে সুশীল সমাজ মনে করেন। গ্রন্থাগারটিতে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সুধীমহল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকে তাকিয়ে আছে।
সরাইল উপজেলায় ০৪ টি মহাবিদ্যালয়, ২৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১১ টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। প্রায় ০৪ লক্ষ লোকের বাস এই সরাইল উপজেলায়। প্রতিষ্ঠানটি সচল করা হলে সাহিত্যমোদিরা,মেধাবীরা,স্থানীয় বাসিন্দা, সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারী,সাংবাদিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের গ্রন্থাগারে যাবার সুযোগ পেত এবং মেধাচর্চা করতে পারতো।
ইসলামিক ফাউণ্ডেশন এর কাছে গ্রন্থাগারের দ্বি-তল ভবনের নিচতলা দীর্ঘসময় ভাড়া থাকা অবস্থায় প্রাপ্ত ভাড়ার টাকা লাইব্রেরীর হিসাবে জমা হলেও ব্যবহারের নেই কোন উদ্যেগ। দীর্ঘ সময় যাবত খোলা না থাকায় গ্রন্থাগারটির পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। জানা গেছে, ইদানিং শিল্প কলা একাডেমির দুটি ক্লাস সপ্তাহে দুইদিন একঘন্টা করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে নীচে বসিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হচ্ছে।
একসময় সরাইলের সুশীল সমাজের বসার ও পড়ার একমাত্র স্থান ছিল এই গ্রন্থাগারটি। আর এখন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সুশীল সমাজের বসার স্থান একমাত্র চায়ের দোকান। এলাকাবাসী গ্রন্থাগারটির সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সুদৃষ্ঠি কামনা করেছেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোশারফ হোসাইন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, সাহিত্যমোদিদের আগমন নিশ্চিত করনে,
জনস্বার্থে ও মেধাচর্চার লক্ষে সরকারি গ্রন্থাগারটি সচল করার লক্ষে যথাশীঘ্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
হবে।