
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক আয়োজন নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা যাদের সংসদে পাঠাই, তারাই আগামী পাঁচ বছর আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। তাই এই সিদ্ধান্তে ভুল হলে তার খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই—বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে এখনো অনেক সময় যোগ্যতা নয়, বরং অর্থ, প্রভাব কিংবা দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে গিয়ে তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হন। এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো তখন উপেক্ষিত থেকে যায়।
নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্পনগরী, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও চাহিদা অন্য অনেক জেলার চেয়ে ভিন্ন। এখানে দরকার এমন প্রতিনিধি, যিনি শিল্পখাত, শ্রমিক অধিকার, পরিবেশ, যানজট, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক সেবার মতো বিষয়গুলো গভীরভাবে বোঝেন এবং সংসদে তা জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেন।
কিন্তু যদি আমরা আবেগ, গুজব কিংবা সাময়িক লাভের আশায় অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করি, তাহলে উন্নয়ন থমকে যাবে। দুর্নীতি বাড়বে, জনস্বার্থ উপেক্ষিত হবে, আর সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে বঞ্চনার শিকার হবে।
একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি শুধু আইন প্রণয়ন করেন না; তিনি জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। তিনি প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং এলাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করেন। এমন প্রতিনিধি ছাড়া একটি অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তাই এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জবাসীর সামনে বড় দায়িত্ব। আমাদের দেখতে হবে—কে সৎ, কে দক্ষ, কে মানুষের পাশে থাকেন, কে অতীতে জনগণের জন্য কাজ করেছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, দলীয় আবেগ কিংবা অর্থের প্রলোভনে পড়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার মাশুল দিতে হবে আমাদেরই।
আজকের ভুল ভোট আগামী দিনের কান্নায় পরিণত হতে পারে। তাই সময় এসেছে সচেতন হওয়ার, দায়িত্বশীল হওয়ার। যোগ্য মানুষকে সংসদে পাঠানো মানেই নিজের অধিকার, ভবিষ্যৎ ও সম্মানকে সুরক্ষিত করা।
নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য এখনই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কারণ যোগ্য লোকদের সংসদে না পাঠাতে পারলে ভোগ করতে হবে নারায়ণগঞ্জবাসীকেই।