গোলাম রাব্বী
রংপুরের কাউনিয়ায় ভুয়া মামলায় ঋণ গৃহীতা রিনা বেগম নামে এক নারীকে হয়রানী ও গ্ৰেফতার করার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি ঋনদান সংস্থা ইএসডিও এনজিও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই নারী ভুয়া মামলাকারীর বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গংগানারায়ন গ্ৰামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রিনা বেগম অভাবেব সংসারে সচ্ছলতা আনতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইএসডিও কাউনিয়া উপজেলা শাখায় ঋন চুক্তিপত্র মোতাবেক একলাখ টাকা ঋণ নেয়। সেই সময় ইএসডিওর শাখা ব্যবস্থাপক তার নামীয়ও জনতা ব্যাংক ঋণ ফাঁকা চেকের পাতা জমা নেয়। সেই অ্যাকাউন্টের টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করেন তিনি।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারিতে তিনি ইএসডিও কাউনিয়া শাখায় কিস্তির সাড়ে চার হাজার টাকা জমা দেন। কিন্তু ইএসডিও রংপুর জোন কর্তৃপক্ষ ও কাউনিয়া উপজেলা শাখা ব্যবস্থাপক তাদের কাছে জমা রাখা রিনা বেগমের জনতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ফাঁকা চেকের একটি পাতায় ২৩/০২/২০২৫ ইং তারিখ বসিয়ে এবং চেকে ৫৬ হাজার টাকা উল্লেখ করে জনতা ব্যাংক কাউনিয়া শাখায় ইএসডিও এনজিওর অ্যাকাউন্টে জমা করেন। কিন্তু ব্যাংকে রিনা বেগমের অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২৯/০৭/২০২৫ ইং তারিখে চেকটি ডিজঅনার করেন। এরপর ২৯/০৯/২০২৫ ইং তারিখে ইএসডিও রংপুর জোনের সহকারী আইন সহায়তাকারী আরিফ ইফতেখার বাদী হয়ে
রিনা বেগমের বিরুদ্ধে রংপুর আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। ইএসডিও কর্তৃপক্ষ মামলার বিষয়টি গোপন রাখে ঋণ গৃহীতা রিনা বেগমের কাছে। আদালতে হাজির না হওয়ায় ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে গত শনিবার দিবাগত রাতে রিনা বেগমকে বাড়ি থেকে গ্ৰেফতার করে রবিবার আদালতে পাঠায় কাউনিয়া থানা পুলিশ। ওইদিন রিনা বেগমকে জামিন দেয় আদালত।
ভুক্তভোগী রিনা বেগম বলেন, তিনি গত বছরের ১৮ মে ইএসডিও এনজিও থেকে ৪৯ হাজার টাকা ঋণ নেন। কিস্তিও দিচ্ছেন। কিন্তু ইএসডিও কর্তৃপক্ষ আমার চেক প্রদানের ২৩/০২/২০২৫ ইং তারিখ দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে ভুয়া চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করে। আমার স্বামী প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ করে আমাকে জামিন করিয়েছে। তিনি বলেন, ভুয়া মামলায় তিনি গ্ৰেফতার হওয়ায় আর্থিক ক্ষতিগ্ৰস্থ হন। এলাকায় তার সম্মানহানি হয়েছে। এ ঘটনার তিনি বিচার চেয়ে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) ইউএনওর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
হয়রানিমুলক ভুয়া মামলায় স্ত্রী গ্ৰেফতারের ঘটনায় আক্ষেপের সুরে অভিযোগ করে ভুক্তভোগীর স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনা যে আর কোন ঋন গৃহীতার সাথে না ঘটে, প্রশাসন তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন এই দাবি জানাই।
এ ব্যাপারে মামলার বাদীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ইএসডিও কাউনিয়া শাখা ব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন বলেন, ঋন গ্রহীতা রিনা বেগম ঠিকভাবে কিস্তির টাকা জমা না করায় উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঋন প্রদানের তিন মাস আগের তারিখ উল্লেখ কৃত চেক ব্যাংকে জমা দিয়ে ডিজঅনার করার বিষয়ে জোনাল অফিস সবই জানেন। তবে জোনাল ম্যানেজার ব্যাংকে ডিজঅনার হওয়া চেকে উল্লিখিত তারিখ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে চেয়েছেন।
তবে ভুয়া চেক ডিজঅনার মামলায় হয়রানি ও গ্রেফতার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কারো সাথে না ঘটে এনজিও শাখা ব্যবস্থাপককের কাছ থেকে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।